April 24, 2026, 8:12 pm
শিরোনাম :
আইনমন্ত্রীর কড়া বার্তা: বিচার ব্যবস্থায় অনৈতিকতা বরদাস্ত নয় পরিত্যক্ত স্কুল ভবনে মাদক আসর, আতঙ্কে মণিরামপুরের স্থানীয়রা জকসুকে দলীয় কর্মসূচিতে ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিবাদ ছাত্রদল-সমর্থিত প্রতিনিধিদের টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ মানবপাচারকারী আটক অষ্টঘরিয়ায় পাপ্পু ক্রীড়া চক্রের ফুটবল টুর্নামেন্টে বাহাদিয়া ক্লাবের জয় কলেজের শিক্ষিকাকে পেটানো ও ভাঙচুরের ঘটনা’য় বিএনপি নেতাকে-বহিষ্কার ওয়ারিশ গোপন করে জমি বিক্রির অভিযোগ, কালীগঞ্জে প্রতারণার শিকার ক্রেতা আধুনিকতার পিঠে মধ্যযুগ: রৌমারীতে জ্বালানি সংকটে ফিরছে ‘ঢেঁকি কল’ নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে উঠে আহত বহু যাত্রী আইডি যাচাইয়ে ন্যায্যমূল্যে ডিজেল পেয়ে স্বস্তিতে চুয়াডাঙ্গর কৃষকরা

জলাবদ্ধতায় হাওরে ডুবছে বোরো ধান, গবাদিপশুর খাদ্যে পরিণত কৃষকের স্বপ্ন

অভয়নগর প্রতিবেদক

সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাতে হাওরাঞ্চলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে অপরিপক্ক বোরো ধান। বুকভরা কষ্ট নিয়ে কৃষকেরা এখন কোমর পানিতে নেমে কাঁচা ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার দেখার হাওর এলাকায় পানির নিচ থেকে কাঁচা ধান কেটে নৌকায় তোলার দৃশ্য দেখা গেছে। কয়েকদিন পর ঘরে তোলার কথা ছিল যে ফসল, সেটিই এখন পানির নিচে নষ্ট হচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, হাওরের জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও স্লুইসগেটের অভাবে পানি বের হতে না পেরে ধান তলিয়ে গেছে।
ইসলামপুর গ্রামের কৃষক মকবুল মিয়া বলেন, “হাওরের পানি বের হওয়ার পথ নেই। অল্প বৃষ্টিতেই আধাপাকা ধান পানির নিচে চলে গেছে। যে ধান ঘরে তোলার কথা ছিল, এখন তা গরুর খাবার হিসেবে কাটতে হচ্ছে।”
একই গ্রামের কৃষক রশিদ মিয়া জানান, “অনেক জমিতে গলা সমান পানি। আরেকটু বৃষ্টি হলে সব ধান তলিয়ে যাবে। উপায় না পেয়ে কাঁচা ধান কাটছি—কিছু গরুর জন্য, কিছু সিদ্ধ করে চাল করার চেষ্টা করব।”
কৃষকদের দাবি, বাঁধ নির্মাণে পরিকল্পনার অভাব ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা ভবিষ্যতে স্লুইসগেটসহ টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে হাওরে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জলাবদ্ধতায় অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী মৌসুমে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্লুইসগেটসহ পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল হাওর এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার