
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সমাজসেবক ফজল মিয়া হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান অভিযুক্ত হারুন ও নুরই মিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অপরাধের তথ্য উঠে আসছে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে খুন, ডাকাতি ও সহিংসতায় জড়িয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এই চক্র—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফজল মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মসজিদের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এটি তাদের প্রথম অপরাধ নয়। ২০০১ সালে জমির আলী হত্যা মামলাতেও হারুন ও নুরইয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় এক সহযোগীকে ছাড়িয়ে নিতে তারা সশস্ত্র হামলা চালায় বলে স্থানীয়রা জানান।
হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের একটি ডাকাতি মামলায় ২০১১ সালে ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। তবে পরে উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিনে বের হয়ে আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রভাব ও ভয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। ওয়ার্ড সদস্য ময়না মিয়া বলেন, “একাধিক ঘটনায় জড়িত থাকার পরও তারা ধরা না পড়ায় অপরাধে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।”
স্থানীয়দের দাবি, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ছাতক সিমেন্ট কারখানার রোপওয়ে থেকে মালামাল লুটের একটি বড় চক্র পরিচালনা করত তারা। এ বিষয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তাদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামালও উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাহিম জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে এবং সম্ভাব্য সব স্থানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ছাতক থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, “পলাতক আসামিদের ধরতে একাধিক টিম কাজ করছে। খুব দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান থাকলেও স্থানীয়দের মধ্যে এখনও উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা কাটেনি।