
শিশুদের আনন্দ-হাসিতে মুখর থাকার কথা যে পার্কে, সেই পার্কই এখন ভয় আর ঝুঁকির জায়গায় পরিণত হয়েছে। রৌমারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত একমাত্র শিশু পার্কটি বর্তমানে অযত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কার্যত ‘মরণফাঁদে’ রূপ নিয়েছে।
গত ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অন্নপূর্ণা দেবনাথ আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কটির উদ্বোধন করেন। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার হালদার-এর উদ্যোগে নির্মিত পার্কটি ঘিরে স্থানীয় শিশুদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই পার্কটির অধিকাংশ রাইড নষ্ট হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের একমাত্র দোলনা ছাড়া বাকি প্রায় সব রাইডই ব্যবহার অনুপযোগী। পাঁচটি স্প্রিং রাইডারের মধ্যে তিনটি সম্পূর্ণ উধাও, বাকি দুটির একটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। চারজন বসার উপযোগী বড় স্প্রিং রাইডারটিও অকেজো হয়ে আছে। দুটি ঢেঁকি দোলনার একটি বাঁকা হয়ে ঝুলে রয়েছে, যা শিশুদের জন্য বিপজ্জনক।
এছাড়া দুটি স্লাইডের মধ্যে একটি ব্যবহারযোগ্য হলেও অন্যটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। স্লাইডটির একপাশে সিঁড়ি না থাকায় এবং উচ্চতা বেশি হওয়ায় শিশুরা পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
পার্কে আসা অভিভাবক মনির হোসেন বলেন, “শিশুদের আনন্দ দিতে এখানে নিয়ে আসি, কিন্তু এখন তাদের নিরাপত্তা নিয়েই চিন্তায় থাকতে হয়। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
অন্য অভিভাবক নাজমুল চৌধুরী (নয়া) জানান, “আমার সন্তান স্লাইড থেকে পড়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে এই পার্ক শিশুদের জন্য বিপজ্জনকই থেকে যাবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পার্কটির বর্তমান অবস্থা তাদের নজরে এসেছে এবং দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, এত অল্প সময়ের মধ্যে পার্কটির এমন বেহাল দশার কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং দ্রুত এটি সংস্কার করে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।