
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা জুড়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে উঠছে মাদকের বিস্তার। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখন হাত বাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন ধরনের মাদক, আর এর প্রভাব পড়ছে কিশোর-তরুণসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ওপর। ফলে দিন দিন বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকায় প্রায় ৭ থেকে ৮ জন বড় মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয় রয়েছে, যারা বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী মাদক নেটওয়ার্ক। তাদের নিয়ন্ত্রণে অর্ধশতাধিক স্পটে খোলামেলাভাবে মাদক বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাদক বিক্রির এসব স্পটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আমবাগান, সিএনজি স্ট্যান্ড, মাছ বাজার, ঠাকুরবাড়ি রোড, রেলগেট, কদমতলা মোড়, ফকিরের বটতলা, আকবরের মোড়, বকুলের মোড়, হাসপাতাল গেট, রেলওয়ে ডায়াবেটিকস হাসপাতালের পেছন, ফাতে-মোহাম্মদপুর বেলতলা মোড়, ভলুর মোড় এবং রেলওয়ে নাজিমুদ্দিন স্কুলের পশ্চিম পাশ। এসব এলাকায় প্রকাশ্যেই মদ, ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক কেনাবেচা চলছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন কৌশলে উপজেলার ভেতরে মাদক প্রবেশ করছে এবং তালিকাভুক্ত অনেক মাদক ব্যবসায়ী একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও জামিনে বেরিয়ে আবার একই কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে। মাঝে মধ্যে ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা ধরা পড়লেও বড় সিন্ডিকেট ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
মাদকের ভয়াবহ প্রভাব ইতোমধ্যেই সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুল ইসলাম বলেন, “মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক কারবারি যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে সচেতন মহল বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে বড় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকার যুবসমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং সামাজিক নিরাপত্তা আরও হুমকির সম্মুখীন হবে।