
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে দীর্ঘদিন ধরে ড্রাইভিং পেশার আড়ালে ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আবুল কাসেম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের আড়ালে থেকে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেট, যা এখন এলাকাবাসীর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশ্যেই চলে বেচাকেনা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বনানীর ওয়্যারলেস গেইট এলাকায় কাসেমের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের পাশের অনুপম দোকান ও ‘সকাল-সন্ধ্যা’ সেলুনের সামনে তাকে নিয়মিত দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রাইভারের ছদ্মবেশে তিনি প্রকাশ্যেই মাদক সরবরাহ করছেন, যা এখন অনেকের কাছেই ওপেন সিক্রেট।
সীমান্ত রুটে আসে মাদকের চালান
সূত্র জানায়, কাসেম মূলত কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করেন। ড্রাইভিং পেশার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে ইয়াবা ও গাঁজার চালান ঢাকায় এনে বনানীসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করেন। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট স্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়াও তার নিয়মিত কৌশল বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়্যারলেস গেইট এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, “তাকে প্রতিদিনই এখানে দেখা যায়। সারাক্ষণ মোবাইল হাতে নিয়ে ঘোরে, বিভিন্ন লোক এসে তার সঙ্গে দেখা করে দ্রুত চলে যায়। সবাই জানে কী হচ্ছে, কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না।”
প্রশাসনের অবস্থান
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কার্যালয়ের পাশেই এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়টি তাদের নজরে ছিল না। তবে মাদকবিরোধী অবস্থানে তারা কঠোর এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। অভিযুক্ত কাসেমের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও অভিযুক্তের গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সচেতন মহল দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বনানী এলাকাকে মাদকমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।