
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে গুজাউনি বেরিবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও কৃষকদের সম্মিলিত চেষ্টায় প্রায় ৯ হাজার হেক্টর বোরো ধান রক্ষা পেয়েছে।
শনিবার সকালে হাওরের মাঝামাঝি জনবসতি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গুজাউনি বাঁধ হঠাৎ ভেঙে যায়। এতে দ্রুতগতিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করলে জয়কলস, পাগলা ও পূর্ব পাগলা এলাকার ফসল হুমকির মুখে পড়ে।
খবর পেয়ে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের শত শত কৃষক বাঁশ, টুকরি ও কোদাল নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় তারা ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে এ সময় হাওরের নিচু এলাকার কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারো কৃষক একত্র হয়ে বাঁধ রক্ষায় অংশ নেন।
আস্তমা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ রক্ষা করা গেলেও পানি দ্রুত না নামলে অন্য ফসলও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।”
এদিকে গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে হাওরের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত উতারিয়া বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে একাধিক এলাকায় পানির চাপ বেড়েছে এবং ইতোমধ্যে কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে বুধবার পানি নিষ্কাশনের জন্য উতারিয়া বাঁধের একটি অংশ কেটে দেওয়া হলেও পরে প্রশাসনের নির্দেশে তা বন্ধ করা হয়। এতে পানি চাপ আরও বেড়ে গিয়ে শনিবার গুজাউনি বাঁধে ভাঙনের ঘটনা ঘটে বলে কৃষকদের অভিযোগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেখার হাওরে মোট ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমির মধ্যে ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, ভাঙা বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসল রক্ষা প্রকল্পের আওতায় ছিল না। তিনি বলেন, আগে থেকে তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যেত। উতারিয়া বাঁধ নিয়ে কৃষকদের মতামত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।