
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক পীরকে ঘিরে ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি প্রতারণা, অনৈতিক সম্পর্ক নাকি অপহরণের অভিযোগ—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়ভাবে পরিচিত পীর হোসাইন আশরাফি নিজের বৈবাহিক অবস্থা গোপন রেখে এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে অর্থ নেন। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, ব্যবসার কথা বলে পর্যায়ক্রমে কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হয় এবং পরে আরও অর্থ দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি কখনো নিজেকে অবিবাহিত, কখনো স্ত্রী পরিত্যক্ত কিংবা স্ত্রী মৃত বলে পরিচয় দিতেন। এতে সন্দেহের সৃষ্টি হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এক পর্যায়ে টাকা ফেরতের কথা বলে ডেকে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে। এ সময় স্থানীয়দের হাতে তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা ও প্রেক্ষাপট এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার আরেকটি দিক তুলে ধরে অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, তাকে অপহরণ করে মারধর করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অপরদিকে অভিযোগকারীর পক্ষ দাবি করেছে, এটি অপহরণের ঘটনা নয়; বরং প্রতারণার বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরস্পরবিরোধী অভিযোগের কারণে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।