June 24, 2026, 2:51 pm
শিরোনাম :
জেলের ছদ্মবেশে অভিযান, নবীনগরে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার রোগীদের ট্রলি সংকট, বালুর বস্তা বহনে ব্যবহৃত হচ্ছে হাসপাতালের ট্রলি খাল খননে জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উন্নয়নের প্রত্যাশা: আমডালায় দুই মন্ত্রীর প্রকল্প পরিদর্শন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে ধরা, কুষ্টিয়ায় আটক ৪ মেসির জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে শুভেচ্ছার জোয়ার, হিলিতেও ভক্তদের উচ্ছ্বাস ইবির ফোকলোর অ্যান্ড সোস্যাল স্টাডিজ বিভাগের নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত নারীকে গণধর্ষণের পর হত্যা: নয় মাস পর ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত, দুই আসামি গ্রেপ্তার হরমুজে আটকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধার করবে জাতিসংঘ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মেধা ও যোগ্যতার কঠিন পরীক্ষায় নওগাঁয় ক্যাডেট এএসআই নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত

গাজীপুরে নার্সের মাধ্যমে ডেলিভারিতে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

Reporter Name

 

প্রতিনিধি, গাজীপুর
গাজীপুরের শ্রীপুরে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে নার্স দিয়ে প্রসূতির ডেলিভারি করানোর সময় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে মাওনা চৌরাস্তার আল রাজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটির পর মৃত নবজাতককে নিয়ে শোকাহত বাবা-মা ও স্বজনেরা শ্রীপুর থানায় উপস্থিত হয়ে বিচার দাবি করেছেন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) নবজাতকের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এর আগের দিন শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা আল রাজি হাসপাতালে নবজাতকটির মৃত্যু ঘটে। মৃত নবজাতকের বাবা নাজমুল ইসলাম এবং মা শারমিন আক্তার উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের আজুগিরচালা গ্রামের বাসিন্দা।
নবজাতকের বাবা নাজমুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার স্ত্রীকে আল রাজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১৩ হাজার টাকায় সিজারিয়ান অপারেশনের চুক্তি হলেও পরে চিকিৎসকরা না এসে দীর্ঘ সময় ধরে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক না থাকায় নার্স কল্পনা আক্তার নিজ উদ্যোগে ডেলিভারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে নবজাতকের মৃত্যু ঘটায়।
নবজাতকের মা শারমিন আক্তার বলেন, তাকে ভর্তি করার পর থেকে বেশ কয়েকটি ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং নার্সেরা শারীরিকভাবে প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। তার অভিযোগ, একপর্যায়ে জরায়ুর মুখ কেটে মৃত নবজাতক বের করা হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত নার্স কল্পনা আক্তার দাবি করেন, অপারেশন থিয়েটারে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকার কারণে তিনি ডেলিভারি করিয়েছেন। তার ভাষ্য, রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনি নিজেই দায়িত্ব নেন। নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কান্না না করায় তাকে অন্য একটি হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হলে নবজাতকের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক রাসেল মিয়া বলেন, হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক না থাকায় তিনি নার্স কল্পনাকে রোগী ভর্তি না করার জন্য নিষেধ করেছিলেন। তাকে না জানিয়ে কীভাবে রোগী ভর্তি হলো, সেটিও তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব অনুমোদনবিহীন হাসপাতালে প্রায়ই রোগী ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে এসব ঘটনা চাপা পড়ে যায়, আর প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হচ্ছে। তাদের দাবি, একটি ঘটনারও যদি যথাযথ বিচার হতো, তাহলে এমন মৃত্যু আর ঘটত না।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অবগত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটির লাইসেন্স সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য কয়েকদিন আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল ইসলাম জানান, নবজাতকের মৃত্যুতে বাবা-মা লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করা হবে এবং হাসপাতালের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে সিভিল সার্জন অফিস থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। দুই স্তরের তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অনেক সময় বাদী-বিবাদী সমঝোতা করে ফেলার কারণে তদন্ত শেষ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।



ফেসবুক কর্নার