June 4, 2026, 3:55 pm
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ে ৭৩ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি মোরেলগঞ্জে জমি বিরোধ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, হামলার অভিযোগ সেনাবাহিনীর সহায়তায় দৃষ্টিশক্তি রক্ষার আশায় পাহাড়ি শিশু মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকেও মোটরসাইকেল চুরি, রৌমারীতে বাড়ছে বাইক চোর চক্রের তৎপরতা রামপালে হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ মা-বাবার প্রতি অবহেলা রোধে মানিকগঞ্জে মানববন্ধন প্রাথমিক শিক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ: চলতি বছরেই চালু হচ্ছে দেশব্যাপী মিড ডে মিল ও স্কুল ড্রেস নওগাঁয় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড মধ্যরাতের আগুনে পুড়ল স্বপ্নের ঠিকানা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে এমপি টিপু নড়াইলে ১৪ বছর কম্পিউটার শিক্ষা বন্ধ: নীরব কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? প্রশ্নে শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা

বাবুই পাখির বাসা দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে: প্রকৃতি প্রেমিকদের গভীর উদ্বেগ

Reporter Name

আল-হুদা মালী স্টাফ রিপোর্টার: এক সময় গ্রামবাংলার তালগাছ ও খেজুরগাছে ঝুলতে দেখা যেত শত শত বাবুই পাখির শিল্পকলার মতো বোনা বাসা। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য ক্রমশ বিরল হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশবিদ ও পাখি গবেষকরা জানাচ্ছেন, বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা বাংলাদেশ থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু বাসা নয়, বাবুই পাখির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে কমছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, গত ২০ বছরে গ্রামাঞ্চলে বাবুই পাখির বাসার সংখ্যা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে গেছে। গ্রাম অঞ্চলে, শহরতলি ও আধা-শহুরে এলাকায় তো প্রায় শূন্যের কোঠায়।
বিশেষজ্ঞরা মূল কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন:
তাল ও খেজুর গাছের অবাধ কাটা বাবুই পাখি বাসা বাঁধে প্রধানত তাল, খেজুর, নারকেল গাছের ডালে। বাণিজ্যিক চাষ, রাস্তা প্রশস্তকরণ ও বাড়ি নির্মাচনের জন্য এসব গাছ কাটা পড়ছে লাগামহীনভাবে।
অতিরিক্ত কীটনাশকেরব্যবহার: ধানক্ষেত ও সবজি খেতে অতিরিক্ত কীটনাশক ছিটানোর ফলে বাবুই পাখির প্রধান খাদ্য পতঙ্গের সংখ্যা কমে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন: অনিয়মিত বৃষ্টি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম বিঘ্নিত হচ্ছে।
মোবাইল টাওয়ার ও বিদ্যুতের তার: অনেক বাবুই বাসা মোবাইল টাওয়ারে বাঁধতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে।
বিখ্যাত পাখি গবেষক এনাম উল হক বলেন, “বাবুই পাখির বাসা শুধু পাখির আশ্রয় নয়, এটা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতীক। এই বাসা হারিয়ে গেলে একটা পুরো প্রজাতি হারিয়ে যাবে।”
এখনও আশার আলো আছে? কিছু এলাকায় সচেতন মানুষ নিজ উদ্যোগে তাল-খেজুর গাছ লাগাচ্ছেন এবং কীটনাশক কম ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন জেলায় কিছু গ্রাম ও অঞ্চলে এখনও বাবুই বাসার দেখা মেলে। পরিবেশকর্মীরা বলছেন, সরকার যদি তাল-খেজুর গাছ কাটায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং গ্রামে জৈব চাষকে উৎসাহিত করে, তাহলে এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বাবুই পাখির বাসা বাঁচাতে না পারলে আমরা হারাবো শৈশবের সেই পরিচিত দৃশ্য—যে দৃশ্য দেখে আমাদের দাদা- দাদি ও নানা-নানিরা বলতেন, “দেখ্ বাবুইয়ের বাসা বানানোর কারুকাজ! মানুষের থেকেও বেশি নিখুঁত।”
  • আপনার এলাকায় এখনও বাবুই বাসা আছে কি? গ্রামবাংলার তাল-খেজুর গাছে ঝুলন্ত বাবুই পাখির বাসা এখন প্রায় দেখাই যায় না



ফেসবুক কর্নার