June 24, 2026, 3:03 am
শিরোনাম :
হ্যাটট্রিকের আশায় রোনালদো, বড় লিড নিয়ে বিরতিতে পর্তুগাল আ. লীগের পরিকল্পনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে : ডিএমপি কমিশনার একযোগে ১৬ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র নোয়াখালীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: ৫ লাখ ৭৬ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রস্তুতি মৃত্যুই আমাদের সবার শেষ গন্তব্য: পিয়া জান্নাতুল জুয়া প্রতিরোধে সংসদে বিল, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড জলবায়ু অর্থায়ন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয় পঞ্চগড়ে মাতৃত্বকালীন ভাতায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ যোগ্যরা বঞ্চিত, সুবিধা পাচ্ছেন অযোগ্যরা; তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের অপপ্রচার ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানিকগঞ্জজুড়ে বিএনপির বিক্ষোভ

সোশ্যাল মিডিয়ায় নারীকে নিয়ে আপত্তিকর কনটেন্টের অভিযোগ, তরুণীর বিস্ফোরক বক্তব্যে তোলপাড়

সাদমান হাসান ঢাকা

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক তরুণীকে ঘিরে আপত্তিকর ভিডিও, AI প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি বিকৃতি এবং মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে অনলাইন কনটেন্ট সংস্কৃতি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন SDM নামে পরিচিত এক ব্লগার। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা, বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া।

ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া নাসরিন আক্তার মুন্নি দাবি করেছেন, SDM-এর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক ছিল না। এক পরিচিত ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে পরিচয় হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক ঘটনায় তাকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হয়।

তার অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে নিয়ে বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, অপমানজনক ভাষা ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার মতো কনটেন্ট ছড়ানো শুরু হয়। এমনকি AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার ছবির অবয়ব পরিবর্তন করে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মুন্নির ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন গ্রুপ ও প্ল্যাটফর্মে তার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তার পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার একপর্যায়ে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তারা থানায় যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে কিছু কনটেন্ট পাওয়ার দাবি করেন মুন্নি। তার ভাষ্যমতে, ওই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে কোনো নারীকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও বা মন্তব্য না করার আশ্বাস দেন।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী হয়রানি, সাইবার বুলিং এবং AI প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কারও ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করা বা মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানো ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত মর্যাদার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

সচেতন মহলের মতে, অনলাইনে জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রতিযোগিতায় অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর সীমা অতিক্রম করছেন। বিশেষ করে নারীকে কেন্দ্র করে অপমানজনক বা ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এদিকে নাসরিন আক্তার মুন্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে যাচাই-বাছাই ছাড়া মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
“একজন মেয়েকে নিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার আগে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। আজ আমার সঙ্গে হয়েছে, কাল অন্য কারও সঙ্গেও হতে পারে।”

ঘটনাটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আইনি সিদ্ধান্ত বা পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



ফেসবুক কর্নার