
মানিকগঞ্জের ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলার পদ্মা-যমুনা তীরবর্তী এলাকায় তীব্র নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। ভাঙনের শিকার প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবারের জন্য পর্যায়ক্রমে মানবিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে শিবালয় উপজেলার বররিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। এমপি জিন্নাহ কবীর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুঃখ-দুর্দশার খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, নদীভাঙন কবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানিকগঞ্জ-১ আসনের চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চরাঞ্চলের যোগাযোগ, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে এমপি জিন্নাহ কবীর বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি কাজী মোস্তফা দিপুসহ উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, নদীভাঙন কবলিত একটি পরিবারও যেন অনাহারে না থাকে এবং দ্রুত স্থায়ী ভাঙনরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, সে লক্ষ্যে তারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছেন।
দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য সংশ্লিষ্ট বক্তার বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এর বাস্তবায়নসংক্রান্ত সরকারি অনুমোদনের তথ্য পৃথকভাবে যাচাইসাপেক্ষ।