July 1, 2026, 1:55 pm
শিরোনাম :
নিখোঁজের একদিন পর সিলেটে উদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ের চার স্কুলছাত্রী অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ জামায়াতের ছায়া বাজেট আর পাস হওয়া বাজেট কাছাকাছিই: শফিকুর রহমান ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই বাংলার জনপ্রিয় মুখ জয়ার জন্মদিন আজ ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে: নাহিদ দুধে পোকা–কীড়ার অভিযোগে ক্ষোভ, তদন্তের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের জামিন নামঞ্জুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ইকুয়েডরের সাথে ২-০ গোলে এগিয়ে মেক্সিকো

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

ইসমাইল হোসেন

১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মোট ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে ছয়জনের সাক্ষ্য শেষ হয়।
গত ২৩ জুন মঙ্গলবার মামলাটিতে মোট আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। সব মিলিয়ে মামলাটিতে মোট ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো। মামলার মোট সাক্ষী ২৮ জন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৬ জুলাই  দিন ধার্য করা হয়েছে।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, সাবেক আইজি বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর থেকে আজকে পর্যন্ত মামলাটিতে ১৪ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।
আজকের ছয় সাক্ষীরা হলেন—নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো.আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুর হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলা চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম, বাড্ডার সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।
গত ৩ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বেনজীরের বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বরে এ মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগ পত্র দেয় দুদক। ওই অভিযোগ পত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা।
ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ছাড়াও বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে দুই মামলায় বেনজীরকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি স্ত্রী জীশান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের পৃথক তিন মামলায় তাকে সহযোগী আসামি করা হয়। বর্তমানে এসব মামলা তদন্তধীন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে থেকেও নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী দেখিয়ে পাসপোর্ট তৈরির ঘটনায় বেনজীর আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি
অর্থ পাচারের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মির্জা ও দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীরের স্ত্রী জীশান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক। তিন মামলায় বেনজীরকে সহযোগী আসামি করা হয়।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।



ফেসবুক কর্নার