August 1, 2026, 9:32 pm

এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা, সতর্কবার্তা জাতিসংঘের

অভয়নগর প্রতিবেদক

ভাবে বাড়তে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা, সতর্কবার্তা জাতিসংঘের

এল নিনোর প্রভাব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান দাবানল যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির আশঙ্কা, আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা আরও বাড়বে এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জাতিসংঘের অধীন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও)বরাতে বলা হয়, দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এর ফলে তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি ও বন্যার মতো দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, প্রাকৃতিক জলবায়ুগত এই ঘটনা মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিরূপ আবহাওয়াকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। ফলে বিদ্যমান জলবায়ু সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় টানা বর্ষণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই এই নতুন সতর্কবার্তা এসেছে। এসব পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এল নিনো এখন আর কেবল সম্ভাব্য কোনো ঘটনা নয়, এটি ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সময়ের সঙ্গে এর শক্তি আরও বাড়ছে এবং দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রের পানির এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৈশ্বিক আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে গুতেরেস বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও নতুন তেল, গ্যাস এবং কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের সম্প্রসারণ বর্তমান সংকটকে আরও গভীর করছে। তাই এসব প্রকল্প থেকে সরে এসে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাসে বলা হয়, বিশ্বের অধিকাংশ স্থলভাগেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। বিশেষ করে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষায় শুধু আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিলেই হবে না। আগাম সতর্কবার্তাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে সরকার, মানবিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তার মতে, সময়মতো কার্যকর সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে।

এদিকে জলবায়ুবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে। তবে এর প্রকৃত মাত্রা কতটা হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন কম্পিউটারভিত্তিক পূর্বাভাসে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।



ফেসবুক কর্নার