August 1, 2026, 9:31 pm

কেন হঠাৎ মরক্কো থেকে স্পেনে অভিবাসীদের ঢল?

অভয়নগর প্রতিবেদক

হঠাৎ করেই একদিনে মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ ঢুকে পড়েছে স্পেনের ছিটমহল সেউতায়। দেশটির সরকার বলছে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের কারণেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি দেশটি। যেখানে বলা হয়েছে, সাঁতার কেটে কেউ স্পেনে পৌঁছালে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না।
জানা গেছে, অধিকাংশই মরক্কোর বাসিন্দারা যেভাবে পারছে সীমান্ত দিয়ে ইউরোপের দেশ স্পেনে প্রবেশ করছে। কেউ সাঁতরে কিংবা কাঁটাতারের বেড়া টপকে স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতা দ্বীপে অনুপ্রবেশ করছে।

তবে কেন আফ্রিকার দেশ মরক্কোর নাগরিকদের স্পেনে প্রবেশের হিড়িক পড়লো? এ বিষয়ে মাদ্রিদ বলছে, এর পেছনে অন্যতম কারণ সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক অদ্ভুত এক রায়। যেখানে বলা হয়েছে, ভৌত বাধা অতিক্রম না করায় সমুদ্রপথে কেউ স্পেনে প্রবেশ করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ, আইনি সহায়তা ও আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবে তারা।
আর সরকারের অভিযোগ, এই রায়ের সুযোগ নিয়ে দালালচক্র অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অবৈধভাবে ইউরোপে ঢুকতে উৎসাহিত করছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ঘটনাটি স্পষ্টতই স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন। যার পেছনে রয়েছে মানবপাচারকারী অপরাধী চক্রগুলোর সম্পূর্ণ নিজেদের স্বার্থ। তারা সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যার অপব্যবহার করেছে। মরক্কো সরকারের সার্বিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এরইমধ্যে অপ্রত্যাশিত এই সমস্যা সমাধানে তৎপরতা চলছে।
স্পেনের অংশ হলেও সেউতা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত ছিটমহলটির সঙ্গে একমাত্র স্থলসীমান্ত মরক্কোর। এছাড়াও, সমুদ্রপথে ৫ কিলোমিটার পাড়ি দিলেই মরক্কো থেকে দ্বীপে প্রবেশ করা সম্ভব। তাই, স্পেনের আদালতের রায়ের সুযোগে উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা ছেড়ে ইউরোপে প্রবেশের এই হিড়িক।
একজন অভিবাসী বলেন, প্রথমে মরক্কো ফেরত যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন এখানেই থাকতে চাই। স্পেনে থাকতে চাই, মরক্কো ফেরত যাব না। যেতে চাই না।
তবে শুধু সাঁতারেই নয়, কাঁটাতার পেরিয়েও ঢুকেছে অসংখ্য মানুষ। তারা আবার সুপ্রিম কোর্টের নতুন আইনের সুবিধা পাবেন না। গণ-অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সেউতার সীমান্তে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। এরই মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের মরক্কোয় ফেরত পাঠানো শুরু করেছে স্পেন।
গতকাল শুক্রবার দেশটি জানিয়েছে, স্থল ও সমুদ্রপথে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করা ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বেশিরভাগই স্বেচ্ছায় আবার মরক্কোতে ফিরে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, সেউতা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্পেনের সীমান্ত অংশ থেকে এ পর্যন্ত ৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরক্কোর অংশেও আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, কেউ সমুদ্রে ডুবে এবং কেউ সীমান্তের বেড়া-সংলগ্ন ব্রেকওয়াটার বেয়ে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মূলত প্রাণ হারিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এবারই প্রথম নয়, এর আগে ২০২১ সালে মাত্র ২ দিনে ঠিক একইভাবে মরক্কো থেকে স্পেনে ঢুকে পড়েছিল প্রায় ১০ হাজার মানুষ। যার জেরে বড় ধরনের কূটনৈতিক বিবাদেও জড়ায় দুই দেশ।



ফেসবুক কর্নার