
চোরাশিকারিদের পাতা হরিণ ধরার ফাঁদে গুরুতর আহত হওয়া রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাঘিনীটি প্রায় ছয় মাসের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শেষে আবারও নিজ আবাসস্থল সুন্দরবনে ফিরে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে বাঘিনীটিকে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল সংলগ্ন গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, গত জানুয়ারিতে চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হয় প্রায় ১০ বছর বয়সী বাঘিনীটি। পরে ট্রাঙ্কুলাইজিংয়ের মাধ্যমে অচেতন করে উদ্ধার করে খুলনার বয়রাস্থ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, বাঘিনীটির সামনের বাঁ পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল এবং সেখানে সংক্রমণও দেখা দেয়। পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা, অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বাঘিনীটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। বর্তমানে ক্ষতস্থান সেরে গেছে এবং সেখানে নতুন লোমও গজিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য গলায় স্যাটেলাইট কলার লাগানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) থেকে প্রয়োজনীয় কলার না পাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বাঘিনির বিচরণ এলাকায় প্রায় ৮ কিলোমিটারজুড়ে ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চিকিৎসা শেষে বাঘিনীটি আগের মতোই সুস্থ ও সক্রিয় হয়েছে। ওজন বেড়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে শিকার ধরার সক্ষমতাও ফিরে পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই তাকে তার প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম এ আজিজ বলেন, সুন্দরবনের বাঘ সাধারণত ১৪ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। প্রায় ১০ বছর বয়সী এই বাঘিনীকে দ্রুত তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথাযথ। দীর্ঘদিন বন্দি অবস্থায় রাখলে তার স্বাভাবিক আচরণ ও শিকার করার দক্ষতা কমে যেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাঘিনীটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং এটি সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।