কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মাঝদিয়াড় গ্রামের পদ্মা নদীতে নোঙর করেছে একটি বিশেষায়িত ভাসমান হাসপাতাল। নদীতীরবর্তী দুর্গম এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে পরিচালিত এ হাসপাতাল থেকে স্থানীয়রা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
‘কিং আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ মোবাইল হসপিটাল বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত এ ভাসমান হাসপাতালটি সৌদি আরবের প্রয়াত বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের সাদকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহযোগিতায় হাসপাতালটি পরিচালনা করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চক্ষু ও দন্ত চিকিৎসা, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, এক্স-রে সুবিধাসহ আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থাও রয়েছে।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন নদীবেষ্টিত ও দুর্গম অঞ্চলে বর্তমানে এ ধরনের পাঁচটি ভাসমান হাসপাতাল সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে দৌলতপুরের মাঝদিয়াড় এলাকায় হাসপাতালটি প্রায় তিন মাস অবস্থান করবে। এ সময় এলাকার হাজারো মানুষ এ সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শও প্রদান করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মা নদীতীরবর্তী দুর্গম এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া দীর্ঘদিন ধরেই ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভাসমান হাসপাতালটি চালু হওয়ায় স্বল্প আয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বিনামূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও স্বস্তিদায়ক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।