
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা-কৈখালী বিলের একটি মাছের ঘের থেকে সুমন (৩২) নামে এক মাইক্রোবাস চালকের বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ঘেরের টোঙের পাশে তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত সুমন সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের কৈখালী গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জামায়াত নেতা হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসাইন মোমিনের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস চালাতেন।
হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসাইন মোমিন জানান, সুমন প্রায় চার বছর ধরে তার গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অসুস্থতার কারণে চার দিন আগে তিনি ছুটি নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। সোমবার সকালে ফোনে জানতে পারেন, তার চালককে হত্যা করে একটি মাছের ঘেরে ফেলে রাখা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, মাগুরা দায়পাড়া গ্রামের কেসমত আলী ভোরে তার মাছের ঘেরের টোঙের লাইট বন্ধ করতে গিয়ে এক যুবকের বিবস্ত্র মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামবাসীদের খবর দেন। পরে স্থানীয়রা এসে মরদেহটি কৈখালী গ্রামের সুমনের বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লোহা কাটার দুটি ব্লেড, সিমবিহীন একটি বাটন মোবাইল ফোন, একটি সিগারেটের প্যাকেট এবং পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের কাটা তার উদ্ধার করেছে।
নিহতের বোন রেশমা খাতুন জানান, রোববার রাতের খাবার খাওয়ার পর একটি ফোনকল পেয়ে সুমন বাড়ি থেকে বের হন। ভোরে তার ঘরের দরজা খোলা দেখে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তারা মাছের ঘেরে মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখেন, মরদেহের পাশে সুমনের লুঙ্গি, গামছা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পড়ে রয়েছে, তবে মোবাইলের সিম কার্ডটি খুলে নেওয়া হয়েছে।
নিহতের পিতা আব্দুল হামিদ অভিযোগ করেন, সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করে মরদেহ মাছের ঘেরে ফেলে রেখে গেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।