জীবনের কঠিন বাস্তবতা অনেক সময় মানুষকে এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা কল্পনাকেও হার মানায়। বাগেরহাটের ১৮ বছর বয়সী এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকন সেই বাস্তবতারই এক নির্মম উদাহরণ।
ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া (৪৫) মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৬টার দিকে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গড়ে ওঠা ছোট্ট পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
পরিবারের বড় ছেলে ইমন একসময় বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসারে সহযোগিতা করতেন। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকেই পরিবারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ছোট ছেলে ইকনের কাঁধে।
ইকন এ বছর বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ মেটাতে তিনি বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকার কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে পার্টটাইম চাকরি করেন।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, মঙ্গলবার বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই রাত ১০টার দিকে তাকে আবার কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। চোখে ছিল বাবাকে হারানোর শোক, কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে থামতে দেয়নি। কারণ পরিবারের দায়িত্ব এখন অনেকটাই তার কাঁধে।
এরই মধ্যে ২৩ জুলাই তার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষাও রয়েছে। একদিকে বাবাকে হারানোর শোক, অন্যদিকে সংসারের দায়িত্ব, চাকরি এবং পরীক্ষার চাপ, সব মিলিয়ে এক কঠিন সময় পার করছেন এই তরুণ।
ইকনের এই সংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এমন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল শিক্ষার্থীর পাশে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা উচিত।
মানুষের জীবনে প্রতিকূলতা আসতেই পারে। কিন্তু ইকনের মতো অল্প বয়সে পরিবারকে আগলে রাখার এই দায়িত্ববোধ এবং দৃঢ়তা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার।