নেটফ্লিক্সের নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘মুসাফির ক্যাফে’ দিয়ে সম্প্রতি দর্শকমহলে ব্যাপক আলোচনা ও জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা। আজ সাফল্যের শিখরে থাকলেও তার ক্যারিয়ারের পেছনের গল্পটা ছিল চরম সংগ্রামের।
মাত্র পাঁচ মাস বয়সে বাবাকে হারিয়ে মুম্বাইয়ের বস্তিতে বড় হওয়া এই অভিনেত্রী ২৬ বছর বয়সেই এখন মুম্বাই শহরের দুইটি অভিজাত বাড়ির মালিক। মহিমা জানান, অভিনয় কখনোই তার নিজের স্বপ্নের পেশা ছিল না। ছোটবেলায় স্কুলের অর্ধেক সময় ক্লাস করে, বাসে চেপে অডিশন দিতে যেতেন। ক্লান্ত হয়ে ফিরলেও মা তাকে উৎসাহ দিতেন।
মহিমার ভাষায়, ‘আমার মা সব সময় অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। অভাবের দিনে মা আমাকে বলেছিলেন- এই পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি নিজের একটা বাড়ি চান। মায়ের এই ইচ্ছাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।’ শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করার সময় নানা অপমান সহ্য করতে হয়েছে মহিমাকে।
৯ বছর বয়সে ‘বালিকা বধূ’র সেটে এক পরিচালক তাকে বলেছিলেন, ‘অভিনয়ই যদি না জানো, তবে এখানে কেন এসেছ?’ সেই অপমানকে শক্তিতে রূপান্তর করেন তিনি। ২০১২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাপনে সুহানে লাড়কাপান কে’-তে মূল চরিত্রে সুযোগ পান। শো-টি সুপারহিট হওয়ার পর মাত্র ১৪ বছর বয়সে মায়ের জন্য নিজের প্রথম বাড়ি ও গাড়ি কেনেন মহিমা।
টেলিভিশনে তুমুল জনপ্রিয় হলেও চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পাওয়া সহজ ছিল না। বারবার রিজেকশন এবং ‘টিভির অভিনেত্রী’ তকমা কাটিয়ে ২০২১ সালে সালমান খানের ‘অন্তিম’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।
মহিমা বলেন, ‘অন্তিম মুক্তির পর হঠাৎ করেই মানুষের আচরণ বদলে যায়। সবাই আমার বন্ধু হতে চেয়েছিল। কিন্তু এর পেছনে ছিল আমার এক দশকেরও বেশি সময়ের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি।
১৪ বছর বয়সে প্রথম বাড়ি কেনার ঠিক ১১ বছর পর, গত বছর মুম্বাইয়ে নিজের দ্বিতীয় ও আরো বড় একটি বাড়ি কিনেছেন মহিমা। তেলুগু সিনেমা, ওটিটি সিরিজ ‘শোটাইম’ ও অতিসম্প্রতি নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় হিট ‘মুসাফির ক্যাফে’-তে দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে ২৬ বছর বয়সেই ইন্ডাস্ট্রিতে দুই দশকের সাফল্য উদ্যাপন করছেন তিনি।
সাফল্য আর কোটি টাকার সম্পত্তি পেলেও বাবাকে না পাওয়ার কষ্ট আজও তাকে তাড়া করে ফেরে। মহিমা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা থাকলে কেমন লাগে, তা আমি জানি না। বন্ধুদের যখন তাদের বাবার সঙ্গে দেখি, তখন বুকের ভেতরটা খালি লাগে। তবে জীবনের সব কষ্ট জয় করে মাকে দেওয়া কথা রাখতে পেরেছি, এটাই আমার বড় তৃপ্তি।