August 11, 2026, 12:49 pm
শিরোনাম :
পারিবারিক কলহে ঘরজামাইয়ের দা’র কোপে ব্যক্তি আহত সোনাহাট সেতু চালু না হওয়ায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, দুর্ভোগে লাখো মানুষ দেশের সব বিভাগেই বৃষ্টির আভাস, কোথাও হতে পারে ভারি বর্ষণ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর অধীনে রাখার দাবি : আতাউর রহমানের সীমান্তে ২৮ লাখ টাকার চোরাই মোবাইলসহ আটক ৩ বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা, অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উসমান গণির বিরুদ্ধে খাল খননের কাজ শেষে প্রায় ১৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত, প্রশংসিত দুই ইউএনও অবশেষে চালু হচ্ছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, চলবে কোম্পানি আইনে ঠাকুরগাঁওয়ের ৫ স্কুলে কেউই পাশ করেনি, হতাশ না হয়ে চেষ্টার পরামর্শ দিলেন মির্জা ফখরুল কন্যা ভূরুঙ্গামারীতে জমি বিরোধে সংঘর্ষে যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১৭

বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা, অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উসমান গণির বিরুদ্ধে

রাসেল

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বন বিভাগের কর্মকর্তা ও গাছ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে মো. উসমান গণির বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উসমান গণি। তাঁর দাবি, বন বিভাগ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করায় তিনি আইনগতভাবেই পাল্টা মামলা করেছেন।
লামা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে মো. উসমান গণির বিরুদ্ধে বন বিভাগে একটি গাছ চুরির মামলা চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
লামা বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ জুন আলীকদম উপজেলার তৈন রেঞ্জের কাঁকড়া ঝিরি এলাকায় সংরক্ষিত বন থেকে সেগুন গাছ কাটার অভিযোগে উসমান গণির বিরুদ্ধে বন মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা
সংশ্লিষ্ট নথি ও সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই বান্দরবানের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৩-এ উসমান গণি একটি সি.আর. মামলা করেন। মামলাটির নম্বর আলীকদম ৫৯/২০২৬। এতে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম কবির উদ্দিন, গাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বাবলু ও রিকশাচালক রশিদ আহমদকে আসামি করা হয়েছে।
তবে মামলাটিকে হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম কবির উদ্দিন। তিনি বলেন, তিনি ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর লামায় কর্মস্থলে যোগ দেন। অথচ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ৯ ডিসেম্বর উসমান গণিকে লামা বাজার থেকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযোগটি সঠিক নয় এবং তাঁকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছে।
তৈন রেঞ্জের কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলামও দাবি করেন, বন আইনে মামলা হওয়ার পর উসমান গণি বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা করছেন।
আগের মামলাও খারিজের দাবি
বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর উসমান গণি কয়েকজন গাছ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে একটি সি.আর. মামলা করেছিলেন। মামলাটির নম্বর ৩৫০/২০২৫। বন বিভাগের দাবি, তদন্তে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালত মামলাটি খারিজ করেন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর তৈন রেঞ্জের কর্মকর্তা ও কয়েকজন গাছ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে উসমান গণি একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।
অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
গাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বাবলু অভিযোগ করেন, মামলা ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে উসমান গণি তাঁর কাছ থেকে তিন দফায় মোট ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। তাঁর দাবি, টাকা নেওয়ার সময় দুই দফায় লিখিত অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল।
রেজাউল করিম বাবলু বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই এবং ভবিষ্যতে মামলা করবেন না—এমন অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আবার মামলা করা হয়েছে।”
আরেক গাছ ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বেচুও উসমান গণির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার উসমান গণির
অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. উসমান গণি। তবে বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে বন বিভাগ মামলা দিয়েছে, তাই আমিও মামলা করেছি—তাতে কী হয়েছে?”
এ বিষয়ে বন বিভাগের দায়ের করা মামলার পাশাপাশি উসমান গণির করা পাল্টা মামলার অভিযোগগুলোও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা বন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার