
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি মধ্যমপাড়া এলাকা থেকে প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে যাওয়া অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে পুলিশ উদ্ধারের পর পিতা-মাতার জিম্মায় দেওয়ার পরও আবারও রহস্যজনকভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অভিভাবকসহ স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরীকে নিয়ে প্রতিবেশী চা বিক্রেতা কবিরের ছেলে ইমন (২০) পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবার ৪ জানুয়ারি দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের পর পুলিশ ইমনের পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে ইমনের স্বজনেরা ৫ জানুয়ারি ছেলে-মেয়েকে থানায় হাজির করেন। পরে ছেলে-মেয়ের বক্তব্য শুনে থানায় মসলেকা নেওয়া হয় এবং মেয়েটিকে তার পিতা-মাতার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
অভিভাবকরা জানান, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মেয়েকে এক আত্মীয়ের বাসায় রাখা হয়। কিন্তু সেখান থেকেও হঠাৎ করে সে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। বর্তমানে সে কোথায় রয়েছে—তা জানা যায়নি। এতে পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইমন ওই কিশোরীর প্রতিবেশী এবং তাদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে কথাবার্তা ও ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে কিশোরীকে প্রভাবিত করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গত ৩ জানুয়ারি কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই এলাকায় বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করছেন, এ ঘটনার মাধ্যমে কিশোরী অসুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে—যা আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তার দিক থেকেও একটি গুরুতর বিষয়। তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
দিঘলিয়া থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেয়েটি পুনরায় নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অভিভাবক মহলও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।