কক্সবাজারের নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সরকারি টিএনটি (বিটিসিএল) অফিসের শত কোটি টাকা মূল্যের জায়গাটি এখন বহুমুখী সংকটে জর্জরিত। একদিকে আবর্জনার স্তূপ আর পচা দুর্গন্ধে পথচারীদের নাভিশ্বাস উঠছে, অন্যদিকে এই সুযোগে রাতের আঁধারে সরকারি জমি দখলের মহোৎসব শুরু হয়েছে। রহস্যজনক এই দখল প্রক্রিয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদগাঁও সরকারি টিএনটি অফিসের সামনের এবং ভেতরের বিশাল জায়গা জুড়ে এখন গৃহস্থালি বর্জ্য ও বাজারের পচা আবর্জনার স্তূপ। দীর্ঘদিন সংস্কার ও তদারকির অভাবে জায়গাটি বর্তমানে একটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ময়লা পচে চারদিকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বিড়ম্বনায় পড়ছেন অফিসে আসা সেবাগ্রহীতা ও বাজারের হাজার হাজার পথচারী। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন বেহাল দশা থাকলেও এটি দেখার যেন কেউ নেই।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, জাগির পাড়া রাস্তার মাথায় অবস্থিত টিএনটি’র এই মহামূল্যবান জায়গাটি দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত থাকায় এখন গ্রাস করতে চাইছে একটি কুচক্রী মহল। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধে যখন অতিষ্ঠ মানুষ, তখন হঠাৎ করেই কে বা কারা রাতের আঁধারে টিনের বেড়া দিয়ে জায়গাটি ঘিরে ফেলছে। দিনে কোনো কাজ না করে রাতের অন্ধকারে বেড়া দেওয়ার এই ঘটনায় এলাকাবাসী মনে করছেন, এটি সরাসরি শত কোটি টাকার সরকারি সম্পদ দখলের একটি অপচেষ্টা।
জাগির পাড়া মোড়ের ব্যবসায়ীরা জানান, একদিকে ময়লা পচা পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে, অন্যদিকে সীমানা প্রাচীর অরক্ষিত থাকায় এটি এখন মশা-মাছির প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধে নাক চেপে হাঁটতে হয় সাধারণ মানুষকে। কিন্তু এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে টিএনটি কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতাকে কাজে লাগিয়েই দখলদাররা সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি: “এতদিন এই ময়লা পরিষ্কারের জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। এখন হঠাৎ রাতের আঁধারে টিনের বেড়া কোত্থেকে এল? আমরা চাই অবিলম্বে এই ময়লা অপসারণ করা হোক এবং সরকারি এই সম্পদ ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করা হোক।”
পরিবেশ রক্ষা এবং সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত অবৈধ বেড়া উচ্ছেদ এবং আবর্জনা পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। ঈদগাঁও উপজেলার এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং শত কোটি টাকার সম্পদ রক্ষায় তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিটিসিএল কক্সবাজারের সহকারী ব্যবস্থাপক মোঃ হোসাইনুর রশিদ কিছুই জানেন না। পরে তার কর্মচারীরা ময়লা থেকে রক্ষার জন্য ঘেরা দিচ্ছেন দাবী করেন। তবে,বিটিসিএল কক্সবাজারের কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক স্বরুপ দে জানান, তারা ঘেরা দিচ্ছেন না। তাহলে কারা দিচ্ছেন বলে জানান।