October 10, 2026, 3:01 am
শিরোনাম :
সড়কের বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মাহমুদা মিতুর কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে হত্যা, ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন ইজিবাইকে লিথিয়াম ব্যাটারির পরীক্ষামূলক প্রকল্প, সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের- প্রতিমন্ত্রী।  ভাঙ্গায় বাসে পুলিশের অভিযান ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার যাত্রী স্থানীয়নির্বাচনে শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করুন- পীর সাহেব চরমোনাই ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে দেশীয় পিস্তল ও গুলি উদ্ধার চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধন জীবনসঙ্গী হিসেবে ভালো বন্ধু ও ভ্রমণপ্রিয় পাত্র চান মিমি হুথিদের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য ইয়েমেনের প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নয়, কর্মক্ষেত্রে সাফল্যে দক্ষতা জরুরি: ববি হাজ্জাজ

সংস্কার বরাদ্দের অর্থ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ কাঠগড়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আসাদুজ্জামান

মুজাহিদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার ও মেরামতের জন্য ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় মোট ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দুই ধাপের স্মারক অনুযায়ী প্রথম ধাপে ২২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩০ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৬৭০ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়গুলোকে নিরাপদ ও ভোটগ্রহণের উপযোগী করতে দরজা–জানালা মেরামত, মেঝে সংস্কার, চুনকাম ও রঙ করা, বৈদ্যুতিক সংযোগ ঠিক করা, পর্যাপ্ত লাইট–ফ্যান স্থাপন, টয়লেট ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের রাস্তা সংস্কার এবং কোথাও কোথাও সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ আসবাবপত্র মেরামতের কাজ করার কথা ছিল।

তবে সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বাটকেখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪নং দক্ষিণ ঘোষপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুলিহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কামালনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার কাজের দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক শ্রেণিকক্ষে পুরোনো দরজা–জানালা, নষ্ট বৈদ্যুতিক সংযোগ ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো আগের মতোই রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের কাছে নির্বাচনকালীন সংস্কার বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা সরাসরি তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। কয়েকজন প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সাংবাদিকদের কোনো তথ্য না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দের অর্থের বড় অংশ যথাযথভাবে কাজে ব্যয় হয়নি। অভিযোগে বলা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অর্থের অপচয় বা আত্মসাতের ঘটনা ঘটতে পারে।

অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান এর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীনের সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদক কে বলেন কোন অবস্থাতে তথ্য গোপন করা যাবে না। আপনি বলেছেন আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি আশ্বস্ত করেন, কোন অবস্থাতে দুর্নীতির প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। যেহেতু আপনি বিষয়টা বলেছেন আমি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিষয়টি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন শুধু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য নয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বরাদ্দের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় দায়িত্ব। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা কেবল আর্থিক অনিয়ম নয়, জনস্বার্থেরও মারাত্মক ক্ষতি।



ফেসবুক কর্নার