
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউতগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে ফানাই নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের কাছে এটি এখন একপ্রকার ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই দশক আগে নির্মিত সেতুটি ২০২১ সালে নদী পুনঃখননের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সেতুর মাঝখানের একটি পিলার দেবে যায় এবং মূল কাঠামোতে ফাটল সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে সেতুটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে।
বর্তমানে টানা বর্ষণে ফানাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেতুর নিচের অংশ প্রায় পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রবল স্রোতের কারণে সেতুর কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর একটি অংশ নিচে বসে যাওয়ায় যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেতুর রেলিংয়ের কংক্রিট ভেঙে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন রবির বাজার, ব্রাহ্মণ বাজার, ভাটুৎগ্রাম, মৈশাজুড়ী, ঢুলিপাড়া ও শ্রীরামপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। পায়ে হাঁটা পথচারীদের পাশাপাশি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাস্টার শরাফত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করে স্কুলে যাতায়াত করছে। অনেক শিক্ষার্থী সাঁতার না জানায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে। তারা দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী, যাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।