March 6, 2026, 12:48 am
শিরোনাম :

বিদেশি ঋণ ছাড়ে ভাটা সুদ-আসলে বাড়তি চাপ

অভয়নগর প্রতিবেদক

বৈদেশিক ঋণের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না সরকার। দুই বছর ধরে বৈদেশিক ঋণ ও প্রতিশ্রুতি কমিয়ে দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা। বিপরীতে বেড়ে গেছে আগের নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ। ঋণের অর্থছাড় কমার কারণে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আগের নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করতে গিয়ে দেশের অর্থনীতি চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নও অনেকটা থমকে গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য বলছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থ পাওয়া গেছে ২৬৪ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। বিপরীতে সুদ ও আসল পরিশোধ করতে হয়েছে ২৬৭ কোটি ৬৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ যে পরিমাণ ঋণ পাওয়া গেছে তার চেয়ে বেশি অর্থ সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ২৬৪ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে পাওয়া গেছে ২৩৯ কোটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে ২৪ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে অর্থছাড় হয়েছিল ৩৯৩ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল ৩৬৬ কোটি ৩৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আর অনুদান হিসেবে এসেছিল ২৭ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।

কমেছে ঋণ প্রতিশ্রুতি: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে গত অর্থবছরের তুলনায় ঋণ প্রতিশ্রুতি কমেছে। অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ২২৭ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রতিশ্রুতি ছিল ২৩৫ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। প্রতিশ্রুতির মধ্যে চলতি অর্থবছরে ঋণ রয়েছে ২১৪ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অনুদানের পরিমাণ ১৩ কোটি ৬ লাখ ডলার। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাত মাসে ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল ২০৩ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর অনুদান প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল ৩১ কোটি ২০ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, বেড়েছে পরিশোধের চাপ। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। যা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৯ হাজার ৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে পরিশোধ বেড়েছে ৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ঋণের আসল পরিশোধ করা হয়েছে ২১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ হয়েছিল ১৮ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা।

ঋণের সুদ পরিশোধও বেড়েছে গত অর্থবছরের তুলনায়। চলতি অর্থবছরে ঋণের সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছিল ১০ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা। তাদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে তখন তাদের পলিসিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এ জন্য তারা নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতিতে না গিয়ে নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পে আগে নেওয়া বিদেশি ঋণের গ্রেস পিরিয়ড সম্প্রতি সময়ে শেষ হয়েছে। ফলে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে।

অর্থছাড়ের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য তারা এই সময়ে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার ছাড় করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৫৫ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার, চীন ২২ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার, জাপান ১৮ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার এবং ভারত ১১ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার ছাড় করেছে।

তবে প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে এডিবি। সংস্থাটি চলতি অর্থবছরে প্রথম ৭ মাসে সর্বোচ্চ ১০২ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ৩৯ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার এবং বিশ্বব্যাংক ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



ফেসবুক কর্নার