May 14, 2026, 9:40 am
শিরোনাম :
শ্যামগঞ্জ বাজারে আমিনুল সরকারের বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র অতিরিক্ত সোডা ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ ইপিজেডে রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কে হকার-শ্রমিকরা গর্জনিয়ায় পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ঝিকরগাছায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নৈশপ্রহরীর মৃত্যু যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: রাঙামাটিতে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুড়িগ্রামে খাদে পড়ার উপক্রম স্কুলবাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা শিবচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় স্থবির রৌমারী, ১৮৪ মিমি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন সরকারের উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দিতে গুইমারায় তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং ইবি থিয়েটারের নতুন নেতৃত্বে প্রণয় ও জ্যোতি

এলপিজির আকাশে ‘মূল্যস্ফীতির’ মেঘ: ৪ কোটি সিলিন্ডার অলস পড়ে

কে. এম. জাকির রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

দেশের সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি এলপিজির দাম বৃদ্ধিতে চাপে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) ঘোষিত এপ্রিল ২০২৬-এর নতুন দর অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বেড়ে ১,৭২৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মার্চ মাসে ছিল ১,৩৪১ টাকা।
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রায় ৬০ লাখ পরিবারের ওপর, যারা রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। দেশের মোট এলপিজি ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশই আবাসিক খাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে বাজারে চাল-ডাল-তেলের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে এলপিজি খাতে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৫.৫ কোটি সিলিন্ডার থাকলেও রিফিল হচ্ছে মাত্র ১.১২৫ কোটি। অর্থাৎ প্রায় ৪.২৫ কোটি সিলিন্ডার অলস অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চমূল্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর এলপিজির চাহিদা ১০ থেকে ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। বর্তমানে বার্ষিক চাহিদা ১৪ থেকে ১৭ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। মাসিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। অন্যদিকে আমদানি সক্ষমতা প্রায় ২.১৩ লাখ মেট্রিক টন এবং মজুত সক্ষমতা প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন।
বিশ্লেষকদের মতে, চাহিদা ও মজুত সক্ষমতার এই ব্যবধান এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে ঘন ঘন মূল্য পরিবর্তন বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলপিজি এখন আর বিলাসপণ্য নয়, বরং মৌলিক চাহিদায় পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের একটি বড় অংশ এলপিজিনির্ভর হয়ে পড়েছে। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখতে মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং অলস পড়ে থাকা সিলিন্ডারগুলো সচল করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এলপিজির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।



ফেসবুক কর্নার