
পবিত্র ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিনে যখন চারদিকে উৎসবের আমেজ থাকার কথা, তখন কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে “আজকে পেট্রোল ও অকটেন নাই” লেখা ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে, যা স্থানীয় যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।
ঈদের ছুটিতে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া কিংবা পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হওয়া গ্রামীণ জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে সেই আনন্দে ভাটা পড়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, “আজ শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সকাল থেকে কয়েকবার পাম্পে এসেও তেল পাইনি। বাইকে তেল না থাকায় যেতে পারছি না।”
এদিকে পাম্পে তেলের সংকটের সুযোগে একটি অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, যেখানে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ থেকে ১১৯ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, সেখানে অবৈধভাবে ২০০ থেকে ২২০ টাকায় তেল বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন—উৎসবের সময়ে কেন জ্বালানি সরবরাহে এমন ঘাটতি তৈরি হলো এবং কীভাবে বাজারে দ্বিগুণ দামে তেল বিক্রি হচ্ছে?
এ বিষয়ে ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের প্রোপাইটর ইঞ্জিনিয়ার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, তেলের সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঈদের বাকি সময়জুড়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।