
সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার আশ্বাস দেওয়া হলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ঝিনাইদহসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত তেল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এতে পরিবহন খাত থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কর্মজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই অভিযোগ করেন, “তেল আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য নেই।” ফলে দিনভর অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককে।
সাধারণ মানুষের ধারণা, এটি স্বাভাবিক সংকট নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা কৃত্রিম সংকট। অভিযোগ রয়েছে, কিছু পাম্প মালিক সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশায় তেল মজুত করে সরবরাহ সীমিত করে দিচ্ছেন।
এছাড়া বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে গোপনে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। পাম্পে তেল না থাকলেও আশপাশে খোলাবাজারে বোতল বা ড্রামে করে চড়া দামে তেল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি বন্ধে কার্যকর তদারকি ও অভিযান দৃশ্যমান নয়।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে পণ্য পরিবহনেও। জরুরি পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অফিসগামী মানুষ, পরিবহন চালক ও দিনমজুর—সবারই কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে।
অনেকের মতে, যদি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকে, তবে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করে সরবরাহ স্বাভাবিক করা উচিত। অনিশ্চয়তার চেয়ে নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জরুরি। অন্যথায় এই কৃত্রিম সংকট আরও প্রকট হয়ে জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্রুত এই সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন দেশের সাধারণ মানুষ।