April 23, 2026, 4:12 pm
শিরোনাম :
বাগমারায় ৭ মাসের শিশুকে নিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূ, উৎকণ্ঠায় পরিবার শিবগঞ্জে টানা চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, চার দিনে ১৩ বাড়িতে সিঁধ কাটা মান্দায় জমি বিরোধে সাত বিঘার বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষ মামলায় এনায়েতনগর যুবদলের তিন নেতা জামিনে মুক্তির পথে সিংগাইরে নারীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ শেরপুরে জমি দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শিক্ষকম্পতিকে লাঞ্ছনার অভিযোগ কমলনগরে ‘খলিল বাহিনী’ আতঙ্ক: ধর্ষণচেষ্টা, চুরি-ডাকাতির অভিযোগে উত্তাল জনপদ দেড় মাস ধরে আদালত চত্বরে ময়লার স্তূপ, দুর্ভোগে বিচারপ্রার্থী ও ব্যবসায়ীরা নলডাঙ্গায় আগুনে কৃষকের ৮টি ছাগল পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ২ লাখ টাকা

প্রকাশ্যে নয়, গোপনে নিলাম—সরকারি গাছ বিক্রিতে কুড়িগ্রামে এসিল্যান্ডকে ঘিরে বিতর্ক

অভয়নগর প্রতিবেদক

প্রকাশ্য নিলামের ঘোষণা দিলেও গোপনে ও বেনামে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে নিলামের নামে অতিরিক্ত গাছ কাটার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তির কাছে নামমাত্র মূল্যে সরকারি গাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে গোপনে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এমনকি নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত গাছের সংখ্যার চেয়েও বেশি গাছ কাটা হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
নিলাম বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন, পার্কিং ও রাস্তা নির্মাণ কাজের জন্য অফিস চত্বরে থাকা ১৭টি মেহগনি ও ১টি কাঁঠালগাছসহ মোট ২১টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে গত ৫ মার্চ প্রকাশ্য নিলামের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ১৫ মার্চ ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। গাছগুলোর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১ হাজার ৪১০ টাকা।
তবে নির্ধারিত দিনে সেখানে কোনো নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানিয়েছেন আগ্রহীরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই উপজেলা ভূমি অফিসে গোপনে নিলাম সম্পন্ন করা হয়। মাত্র তিনজন অংশগ্রহণকারী দেখিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায় নিলাম শেষ করা হয় এবং নুর আলম নামে একজনকে সর্বোচ্চ দরদাতা ঘোষণা করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে নুর আলম নিজেই জানান, তিনি নিলামে উপস্থিত ছিলেন না এবং কবে, কোথায় নিলাম হয়েছে সে সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা সাদেকুল ইসলাম মিলন বলেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে নিলাম হওয়া সম্পূর্ণ অনিয়ম ও দুর্নীতি। অন্যদিকে আশরাফুল হক অভিযোগ করেন, প্রায় তিন লাখ টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়েছে।
কাঁঠালবাড়ী বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক জানান, নিলাম প্রক্রিয়াটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং আগ্রহীরা কোনো তথ্যই জানতে পারেননি। তার দাবি, ২১টি গাছের পরিবর্তে ২৮টি গাছ কাটা হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুল জালাল অতিরিক্ত গাছ কাটার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, লে-আউটের প্রয়োজনেই ২-১টি গাছ বেশি কাটা হয়েছে এবং তা এসিল্যান্ডের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম বলেন, নিলাম প্রক্রিয়া সঠিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতেই তা হয়েছে। ২১টির বেশি গাছ কাটার বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। যদি অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়ে থাকে, তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



ফেসবুক কর্নার