
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা—দেশের অন্যতম পর্যটন ও শিল্প এলাকা। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গড়ে উঠেছে একাধিক ডান্স ক্লাবকেন্দ্রিক অসামাজিক কার্যক্রমের সিন্ডিকেট—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘ডান্স একাডেমি’ ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণের নামে কিছু প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলেও সেগুলোর আড়ালে চলছে অনৈতিক কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, অসহায় ও নিম্নআয়ের নারী শ্রমিকদের নাচ শেখানো বা ভালো আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। পরে বিভিন্ন কৌশলে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে অসামাজিক কাজে বাধ্য করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে মুরাদ নামের এক ব্যক্তির নাম বারবার উঠে আসছে, যিনি একটি ডান্স একাডেমির পরিচালক হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আড়ালে নারী সংগ্রহ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ চক্রে আরও কয়েকজন নারী সদস্য সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে, যারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের খুঁজে বের করে। বিশেষ করে পতেঙ্গা এলাকার গার্মেন্টস কর্মীদের লক্ষ্য করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পতেঙ্গার কিছু আবাসিক হোটেল এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট চক্রের সদস্যদের সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ থাকে এবং অতিথিদের কাছে তাদের সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অভিযুক্তরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় এই ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।