
নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের চোরাই গার্মেন্টস কাপড় উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় আবুল বাশার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন রাজু। তিনি জানান, সোমবার (৪ মে) সুবর্ণচরের চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার এবং হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের বয়ারচর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব কাপড় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানীকৃত ১৬৩টি কাপড়ের বান্ডিল একটি কাভার্ডভ্যানে করে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। তবে ২৫ এপ্রিল ভোরে নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে চালকের যোগসাজশে কাপড়গুলো আত্মসাৎ করা হয়। পরে সেগুলো নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ভাগ করে সংরক্ষণ করা হয়।
অভিযানে চরমজিদ ভূঞারহাট বাজারের একটি গোডাউন ও হাতিয়ার একটি ঘর থেকে মোট ১৬৩টি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৯৬টি সুবর্ণচর এবং ৬৭টি হাতিয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার সূত্র ধরে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। অভিযুক্তদের মধ্যে আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় পরিমাণ পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণে প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে অভিযুক্তদের কেউ কেউ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ডিবির এসআই মহিউদ্দিন রাজু জানান, উদ্ধার হওয়া কাপড়ের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে।