June 4, 2026, 3:37 am
শিরোনাম :
ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধর , চালক আটক টাঙ্গাইলে মাদকসহ গ্রামবাসীর হাতে আটক কুখ্যাত মাদক কারবারি ছবুর মহাসড়ক যখন ধান শুকানোর চাতাল: রৌমারীতে বাড়ছে মৃত্যুফাঁদের ঝুঁকি কটিয়াদীতে এ.কে বাশার রতন হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ফের হামলার অভিযোগ, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের আয়োজনে ৫৩৫তম স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সের উদ্বোধন বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে ঝিনাইদহে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা ভোররাতের আগুনে পুড়ল হোটেল ও তেলের দোকান, ক্ষতি প্রায় ৫০ লাখ টাকা দুস্থদের মাঝে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ মায়ের কঙ্কালসার দেহ আর সফল সন্তানদের বিবেক: এক নির্মম সামাজিক বাস্তবতা নওগাঁয় মাদক ব্যবসার অভিযোগে ক্ষোভ, অভিযুক্ত নারীকে ঘিরে প্রশ্ন

ঈদের দিনেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো ‘বাতিঘর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’

নওশেদ ভুঁইয়া ক্রাইম রিপোর্টার

পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দঘন পরিবেশেও মানবিক দায়িত্ব পালনে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’। ঈদের দিন অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ভবঘুরে ব্যক্তির বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের মাধ্যমে সংগঠনটি মানবতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে সংগঠনটির উদ্যোগে মোট ২৫৪টি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের নজির গড়লো।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডা এলাকার তিতাস নদী সংলগ্ন বেওয়ারিশ কবরস্থানে মরদেহটি দাফন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রকীব উর রাজা।
জানা গেছে, গত ২২ মে সকালে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের উত্তর জগৎসার গ্রামের একটি পুকুরঘাট থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের প্রায় ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। তবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করলেও কোনো তথ্য মেলেনি। ছয়দিন হাসপাতালের হিমাগারে রাখার পরও স্বজনদের কেউ এগিয়ে না আসায় শেষ পর্যন্ত ঈদের দিন মরদেহটি দাফনের উদ্যোগ নেয় ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “পরিচয় শনাক্তে সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কেউ না আসায় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই মরদেহটি দাফন করা হয়েছে। গত ছয় বছর ধরে আমরা বেওয়ারিশ মানুষের ওয়ারিশ হয়ে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “মানবিক কাজের ক্ষেত্রে কোনো উৎসব বা প্রতিকূলতা বাধা হতে পারে না। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা ঈদের দিনেও আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রকীব উর রাজা বলেন, “পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে তারা দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এমন মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
উল্লেখ্য, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিশ লাশ দাফন, অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, রক্তদান, অক্সিজেন সেবা ও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ২৫৪টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং দুই হাজারের বেশি অজ্ঞাত রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।



ফেসবুক কর্নার