June 3, 2026, 10:06 pm
শিরোনাম :
ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধর , চালক আটক টাঙ্গাইলে মাদকসহ গ্রামবাসীর হাতে আটক কুখ্যাত মাদক কারবারি ছবুর মহাসড়ক যখন ধান শুকানোর চাতাল: রৌমারীতে বাড়ছে মৃত্যুফাঁদের ঝুঁকি কটিয়াদীতে এ.কে বাশার রতন হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ফের হামলার অভিযোগ, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের আয়োজনে ৫৩৫তম স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সের উদ্বোধন বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে ঝিনাইদহে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা ভোররাতের আগুনে পুড়ল হোটেল ও তেলের দোকান, ক্ষতি প্রায় ৫০ লাখ টাকা দুস্থদের মাঝে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ মায়ের কঙ্কালসার দেহ আর সফল সন্তানদের বিবেক: এক নির্মম সামাজিক বাস্তবতা নওগাঁয় মাদক ব্যবসার অভিযোগে ক্ষোভ, অভিযুক্ত নারীকে ঘিরে প্রশ্ন

মহাসড়ক যখন ধান শুকানোর চাতাল: রৌমারীতে বাড়ছে মৃত্যুফাঁদের ঝুঁকি

কে এম জাকিরুল ইসলাম

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি কৃষি। কৃষকের পরিশ্রমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও জননিরাপত্তা ও সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। কৃষকদের ফসল শুকানোর সুবিধার কারণে মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কগুলো ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ মৃত্যুফাঁদে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রৌমারীর বাউশমারী থেকে দাঁতভাঙ্গা শালুর মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে ধান, খড় ও ভুট্টা শুকানোর দৃশ্য এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কোথাও কোথাও রাস্তার ওপরই চলছে ধান মাড়াইয়ের কাজ। ফলে যানবাহন চলাচলের জন্য নির্ধারিত রাস্তার বড় অংশ দখল হয়ে যাচ্ছে এবং সড়কের কার্যকর প্রস্থ অর্ধেকে নেমে আসছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বাড়ির উঠানের তুলনায় পাকা সড়কে বেশি রোদ পাওয়া যায় এবং ফসল দ্রুত শুকায়। হঠাৎ বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের আশঙ্কায় তারা মহাসড়ককে সহজ সমাধান হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে এই সুবিধা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তার ওপর খড়, ধান কিংবা ভুট্টা ছড়িয়ে থাকলে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চাকা সহজেই পিছলে যেতে পারে। ব্রেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। সম্প্রতি রৌমারী লঞ্চঘাট সড়কের কুটিরচর ব্রিজ এলাকায় ভুট্টা শুকানোকে কেন্দ্র করে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের ঘটনা সড়ক দুর্ঘটনায় রূপ নেয়। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত।

এলাকাবাসী জানান, সড়কে ফসল শুকানো নিয়ে কৃষক ও পথচারীদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা, এমনকি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এতে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে এবং নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, কৃষকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী জানিয়েছেন, সড়কে যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে পুলিশ নজরদারি করছে।

তবে সচেতন মহলের দাবি, শুধু প্রচারণা বা পর্যবেক্ষণ নয়, প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। রৌমারীর বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সংগঠক শাহ মো. আব্দুল মোমেন বলেন, “এখনই জরুরি পদক্ষেপ না নিলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে।”

স্থানীয়দের মতে, সমস্যা সমাধানে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, সড়কে ফসল শুকিয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইউনিয়ন বা গ্রাম পর্যায়ে কৃষকদের জন্য বিকল্প শুকানোর চাতাল বা উন্মুক্ত মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

কৃষক দেশের সম্পদ, কিন্তু জননিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই কৃষি উৎপাদনের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহাসড়ককে ঝুঁকিমুক্ত রাখা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগেই কেবল বন্ধ হতে পারে এই ‘রোড-চাতাল’ সংস্কৃতি এবং নিশ্চিত হতে পারে সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত।



ফেসবুক কর্নার