
বাংলাদেশে মাদকাসক্তির চিত্রে গাঁজা এখনও অন্যতম বহুল ব্যবহৃত মাদক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং মাদকবিরোধী সংগঠনগুলোর মতে, সহজলভ্যতা, তুলনামূলক কম দাম এবং সামাজিক প্রভাবের কারণে বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ গাঁজা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। ফলে জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মক্ষমতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই গাঁজাকে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর মনে করলেও দীর্ঘদিন নিয়মিত ব্যবহারে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মনোযোগে ঘাটতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং কিছু ক্ষেত্রে মানসিক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। অল্প বয়সে গাঁজা ব্যবহার শুরু করলে এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গাঁজা সরবরাহ ও বিক্রির নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয়। সীমান্তবর্তী এলাকাকে ব্যবহার করে চোরাচালানের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও অবৈধ বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা জব্দ এবং বহু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও নতুন নতুন চক্র গড়ে ওঠায় এই চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারভিত্তিক নজরদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং আসক্তদের জন্য কার্যকর পুনর্বাসন ব্যবস্থা।
তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বন্ধুবান্ধবের প্রভাবে অনেক তরুণ প্রথমবার গাঁজা সেবনে উদ্বুদ্ধ হয়। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ প্রবণতা রোধ করা কঠিন।
বিশেষজ্ঞরা মাদকবিরোধী কার্যক্রমে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক প্রচার চালানো এবং আসক্তদের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।