July 5, 2026, 9:05 pm
শিরোনাম :
আর্জেন্টিনা-মেসিবিরোধী প্রচারণায় টাকা দিচ্ছে এক প্রতিষ্ঠান মিরাজের চোখে জিম্বাবুয়ে সিরিজ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মঞ্চ হামে শিশুর মৃত্যুড. ইউনূসের কাছে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট কীভাবে ভূমিকম্প হওয়ার আগেই স্মার্টফোনে সতর্কবার্তা পাঠায় গুগল বিশ্বকাপে চমক দেখিয়ে ব্রাজিলে খেলার অফার পেলেন ভোজিনহা পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর বিমানবন্দর থেকে উধাও ৬১ মালয়েশিয়াগামী যাত্রী, সক্রিয় ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ সিন্ডিকেট ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’কে বিয়ে করার কারণ জানালেন মৌসুমী পাপনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তে বিসিবির কাছে নথি চেয়েছে দুদক অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকি : চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে শোকজ

কীভাবে ভূমিকম্প হওয়ার আগেই স্মার্টফোনে সতর্কবার্তা পাঠায় গুগল

ইসমাইল হোসেন
ছবি দৈননিক অভয়নগর

পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভেনেজুয়েলা। ধসে পড়েছে অনেক বহুতল ভবন, এখনও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, দেশজুড়ে নিহত ও নিখোঁজদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। তবে, গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেই ব্যবহারকারীদের সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল বলে জানিয়েছে কোম্পানিটির এক কর্মকর্তা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে গুগলের এক কর্মকর্তা জানান, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা এই সিস্টেম ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় বুধবার রাতে ব্যবহারকারীদের নোটিফিকেশন পাঠায়। তবে কতজন ব্যবহারকারী এই সতর্কবার্তা পেয়েছেন তা তিনি নির্দিষ্ট করেননি।
কীভাবে কাজ করে এই সিস্টেম
অ্যান্ড্রয়েডের ভূমিকম্প সতর্ক ব্যবস্থা দুটি প্রধান প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও ওয়াশিংটনে শেকঅ্যালার্ট নামের একটি সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে একে সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ১৬৭৫টি ভূ-কম্পন সেন্সর মাটির কম্পন শনাক্ত করে তথ্য সরাসরি অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে পাঠায়।
দ্বিতীয়ত, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ভেতরে থাকা অ্যাক্সিলোমিটার সেন্সর ব্যবহার করা হয়। ফোনটি যদি ভূমিকম্পের মতো কম্পন অনুভব করে, তবে সেটি অবস্থানসহ গুগলের সার্ভারে সংকেত পাঠায়। একাধিক ফোনের তথ্য একত্র করে নিশ্চিত করা হয় সত্যিকারের ভূমিকম্প হচ্ছে কি না। এভাবে লাখ লাখ অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে এক ধরনের ‘ভার্চুয়াল সিসমোমিটার নেটওয়ার্কে’ পরিণত করা হয়।
দুই ধরনের সতর্কবার্তা
এই সিস্টেমে দুই ধরণের অ্যালার্ট দেয়া হয়। একটি হলো- ‘বি অ্যাওয়্যার’ (Be Aware) অ্যালার্ট, যা হালকা কম্পন শনাক্ত করেই ব্যবহারকারীদের নোটিফিকেশন পাঠায় এবং এবং ভলিউম, ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ এবং অন্যান্য নোটিফিকেশন সেটিংস মেনে চলে।
অন্যটি হলো ‘টেক অ্যাকশন’ (Take Action) অ্যালার্ট যা মাঝারি থেকে তীব্র কম্পনের ক্ষেত্রে দেয়া হয়। এই সতর্বার্তা ফোনের সব সেটিংস অগ্রাহ্য করে স্ক্রিন আলোকিত করে এবং মনোযোগ আকর্ষণের জন্য একটি উচ্চ শব্দ বাজায়। যেকোনো একটি সতর্কতায় ট্যাপ করলে নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ এবং একটি মানচিত্র প্রদর্শিত হয়, যেখানে ভূমিকম্পের অবস্থান ও মাত্রার একটি প্রাথমিক অনুমান থাকে।
যেহেতু সতর্কতা বার্তাগুলো ইলেকট্রনিক সংকেত হিসেবে প্রেরিত হয়, তাই ধীরগতির ভূকম্পন তরঙ্গ পৌঁছানোর আগেই সেগুলো ফোনে পৌঁছে যেতে পারে। গুগল বলছে, কম্পন শুরু হওয়ার আগে ওই কয়েক সেকেন্ডই কারো জন্য মই থেকে নেমে যাওয়া, ভারী বস্তু থেকে দূরে সরে যাওয়া, বা মাটিতে বসে আশ্রয় নিয়ে কোনো কিছু আঁকড়ে ধরার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
আগাম সতর্কতার উদাহরণ
গুগল জানায়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ফিলিপাইনে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের সময় এই সিস্টেম ভূমিকম্প শুরু হওয়ার মাত্র ১৮.৩ সেকেন্ড পরেই প্রথম সতর্কবার্তা পাঠায়। কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি মানুষরা ১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত আগাম সতর্কতা পান, আর দূরের অঞ্চলে থাকা মানুষরা এক মিনিট পর্যন্ত সময় পান। ওই সময় প্রায় ২৫ লাখ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছিল।



ফেসবুক কর্নার