September 6, 2026, 3:13 pm

৪৫ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

আজিজুল হাকিম তুহিন, স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম

বান্দরবানে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ৪৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্প ঘিরে অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নের কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে বেশ কিছু কাজের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি—এই সাত উপজেলায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় নলকূপ স্থাপন, জিএফএস লাইন নির্মাণ ও সংস্কার, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং, পাম্প হাউস ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কয়েকটি কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলেও কাগজপত্রে সেগুলোর অগ্রগতি দেখানো হয়েছে। এমনকি পূর্ববর্তী কোনো প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কাজ নতুন প্রকল্পের অধীনে দেখানো হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক মানুষ এখনো নিরাপদ পানির সংকটে রয়েছেন। বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের পরও প্রত্যাশিত সুফল না পাওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। আরও অভিযোগ, নির্ধারিত কাজ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে বাস্তবায়ন এবং কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগে বা যথাযথ যাচাই ছাড়াই বিল পরিশোধের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অনুমোদিত নথি, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার ও মাঠপর্যায়ের কাজের তুলনামূলক পর্যালোচনা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটির পরিচালক হিসেবে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এবং উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসেবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগ সত্য হলে সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অপচয় বা অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে প্রকল্পের প্রকৃত অগ্রগতি ও ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে স্পষ্ট করা জরুরি। তাই প্রকল্পের অনুমোদন, কার্যাদেশ, বাস্তব অগ্রগতি, বিল-ভাউচার এবং মাঠপর্যায়ের কাজ সরেজমিন যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র প্রকাশের দাবি উঠেছে।



ফেসবুক কর্নার