March 6, 2026, 12:55 am
শিরোনাম :

মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তর: হালিমা খাতুন এখন নিশান ইমতিয়াজ

অভয়নগর প্রতিবেদক

যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় এক ব্যতিক্রমধর্মী ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর সলিমাবাদ গ্রামের আব্দুস সামাদ দর্জির কন্যা হালিমা খাতুন (২৫) শারীরিক ও হরমোনজনিত পরিবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পুরুষে রূপান্তরিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিশান ইমতিয়াজ নামে পরিচিত।
এ ঘটনায় পুরো উপজেলায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হালিমা খাতুন ছোটবেলা থেকেই কিছুটা ছেলেদের মতো আচরণ করতেন। তিনি সম্ভুদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি পাস করেন এবং একই বছর তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তিনি প্রায় ১২ বছর সংসার করেছেন এবং তার একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে তার কণ্ঠস্বর, শারীরিক গঠন ও বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ধীরে ধীরে তার শরীরে পুরুষালি বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিষয়টি প্রথমে পরিবার গুরুত্ব দেয়নি, তবে পরিবর্তন প্রকট হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় তারা।
পরিবারের এক সদস্য বলেন,
“আমরা বিভিন্ন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, শরীরে অতিরিক্ত পুরুষ হরমোন (টেস্টোস্টেরন) থাকার কারণে এমন পরিবর্তন হতে পারে। এখন সে শারীরিকভাবে সুস্থ আছে এবং পুরুষ হিসেবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে।”
হালিমার বাবা আব্দুস সামাদ দর্জি বলেন,
“আল্লাহর ইচ্ছাতেই সব হয়েছে। এতে কারও কোনো হাত নেই। আমার মেয়ে দীর্ঘ ১২ বছর সংসার করেছে, তার একটি ছেলে সন্তানও আছে। এখন সে পুরুষে রূপান্তরিত হয়েছে—আমরা এটা মেনে নিয়েছি।”
স্থানীয়রা জানান, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এফিডেভিট করে তার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন তার সরকারি ও সামাজিক পরিচয় নিশান ইমতিয়াজ নামে।
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোহাম্মদ আসিফ আহমেদ বলেন,
“লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়। মেডিকেল সায়েন্সে সম্পূর্ণ নারী থেকে পুরুষে রূপান্তর খুবই বিরল ও জটিল বিষয়। তবে হরমোনজনিত সমস্যার কারণে শরীরের গঠন ও বৈশিষ্ট্যে বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানতে হলে বিস্তারিত মেডিক্যাল পরীক্ষা প্রয়োজন।”
এ ঘটনায় এলাকায় উৎসুক জনতা নিশান ইমতিয়াজকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করছেন। বিষয়টি সামাজিক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



ফেসবুক কর্নার