September 15, 2026, 4:42 pm

বেনাপোল দিয়ে দুই মাসে সাড়ে তিন লাখ কেজি ইলিশ আমদানি

অভয়নগর প্রতিবেদক

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ভারত থেকে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ মাছ আমদানি হয়েছে। ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ দেশে এনেছে। বেনাপোল বন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বন্দর সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়। দুই মাসে আমদানি করা মাছের ঘোষিত মোট মূল্য ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা এবং আগস্টে ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। ফলে জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে ইলিশ আমদানির পরিমাণ প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে।
ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আসায় বেনাপোল, শার্শা, বাগআঁচড়া, নাভারণ, যশোর বড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে মাছটির সরবরাহ বেড়েছে। তবে বাজারে বিদেশি ইলিশের পরিচয় নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক আড়তদারের দাবি, মিয়ানমারের ইলিশ ভারত হয়ে বেনাপোল দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। তবে ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা বলছেন, বেনাপোল দিয়ে আসা ইলিশ ভারতীয়। মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। এদিকে বৈধ আমদানির পাশাপাশি অবৈধভাবে ইলিশ প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আনা ১২ কার্টন বা প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
ইলিশ কিনতে আসা আব্দুল আলিম বলেন, দেশি ইলিশ মনে করে মাছ কেনার পর খেয়ে স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য বুঝতে পারেন। তার মতে, দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে দেশি ও বিদেশি ইলিশ আলাদা করা কঠিন। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ প্রতি কেজি ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ১ কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের কথিত মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। তুলনামূলক বড় মাছ কম দামে পাওয়ায় অনেক ক্রেতা বিদেশি ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানান। এতে দেশি ইলিশের বিক্রি কমে তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।



ফেসবুক কর্নার