September 15, 2026, 5:29 pm

পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, দুই আসামি গ্রেপ্তার

মাইনুল ইসলাম

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কথিত প্রেমিক সোহেল (২৫) ও তাঁর সহযোগী রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টুর (২৩) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ওই স্কুলছাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে মারা যায়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল ও ইজিবাইকচালক রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা দুজনই পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শালমারা ভিতরগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে স্কুলে যাতায়াতের পথে প্রায়ই বিরক্ত করতেন সোহেল। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সোহেল ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে বের করেন। পরে রফিকুলের ইজিবাইকে করে তাঁকে রাজমহল পূর্ববাগান এলাকার একটি বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে সোহেল ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে ওই ছাত্রীকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হলে ইজিবাইকে থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তিনি স্থানীয় এক চালকের সহায়তায় বাড়িতে ফেরেন এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরদিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৩ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় সদর থানায় সোহেলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন ওই স্কুলছাত্রীর বড় ভাই। মঙ্গলবার পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, অসুস্থ অবস্থায় স্কুলছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।



ফেসবুক কর্নার