April 25, 2026, 7:07 am
শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘হেল্পলাইন’ নামের সংগঠনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ টেকনাফে মাদক মামলার আসামি রাসেল আটক বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস পালিত: নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেটেরিনারিয়ানদের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার আসনের চেয়ে পরীক্ষার্থী কম: দুশ্চিন্তার ভাঁজ শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে কম সুদে প্রি-শিপমেন্ট ঋণ সুবিধা চালু, রফতানিতে গতি ফেরানোর উদ্যোগ অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণে শাস্তির বিধান: নতুন সাইবার আইনে গোপনীয়তা সুরক্ষায় জোর আইনমন্ত্রীর কড়া বার্তা: বিচার ব্যবস্থায় অনৈতিকতা বরদাস্ত নয় পরিত্যক্ত স্কুল ভবনে মাদক আসর, আতঙ্কে মণিরামপুরের স্থানীয়রা জকসুকে দলীয় কর্মসূচিতে ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিবাদ ছাত্রদল-সমর্থিত প্রতিনিধিদের টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ মানবপাচারকারী আটক

মোল্লাহাটে নামজারি–মিউটেশন জটিলতায় জনভোগান্তি চরমে, ভূমিদস্যুর দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে গ্রামবাসী

অভয়নগর প্রতিবেদক

রায়হান শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় জমি–জমার নামজারি (মিউটেশন) প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চরম জটিলতায় পড়ায় সাধারণ মানুষ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ২০০৯ সালের বিআরএস জরিপের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় উপজেলার জেএল নং–৫২, গাড়ফা মৌজায় এখনো এসএ জরিপকে সর্বশেষ রেকর্ড হিসেবে ধরে নামজারি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসএ জরিপে মালিকানার অংশ (শেয়ার) স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় প্রকৃত মালিকদের জমিকে সমান অংশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ফলে অল্প জমির মালিক ও বড় জমির মালিককে একই কাতারে দাঁড় করানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায্য ও আইনের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দালাল ও ভূমিদস্যু চক্র সাধারণ মানুষকে হয়রানি, প্রতারণা ও জমি দখলের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এর প্রভাব পড়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। চিকিৎসা ব্যয়, মেয়েদের বিবাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদেশ গমন, এমনকি খাজনা প্রদান ও জমি ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
গাড়ফা গ্রামের বাসিন্দা রাজিব চৌধুরী বলেন, “সিএস জরিপে মালিকানার অংশ স্পষ্ট ছিল। কিন্তু এসএ জরিপে অংশ নির্ধারণ না থাকায় ২ শতাংশ ও ১০০ শতাংশ জমির মালিককে সমান ধরা হচ্ছে। এটি সাধারণ মানুষের প্রতি চরম অবিচার।”
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আব্দুস সত্তার চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, “ভূমি অফিসে দালাল ও ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য ভয়াবহ। তারা কয়েক দফা টাকা নিয়ে মিউটেশন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করছে। আমাদের প্রায় ২০০ বছরের পৈতৃক ভিটেমাটি দখলের চেষ্টা চলছে। মামলা বছরের পর বছর ধরে চলছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না।”
তিনি আরও জানান, উপজেলা ভূমি অফিসে ১৫০ ধারায় নামজারি খারিজের আবেদন করা হলেও বারবার টাকা দেওয়ার পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চুনখোলা ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক মোড়ল বিষয়টি নিয়ে শুধু সময়ক্ষেপণ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক মোড়ল মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
মোল্লাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুষ্মিতা সাহা বলেন,“আইন অনুযায়ী সর্বশেষ রেকর্ড অনুসরণ করেই নামজারি করতে হয়। এসএ বা বিআরএস রেকর্ড ছাড়া অন্য কোনো রেকর্ডের ভিত্তিতে নামজারি করার সুযোগ নেই।”এদিকে বাটোয়ারা ও অংশভাগ সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতায় মানুষ আরও নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। ভূমি অফিস আদালতের দ্বারস্থ হতে বললেও এসব মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে। এতে দালাল, ভূমি অফিস ও আদালতের জটিলতায় সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর জোর দাবি—দ্রুত ২০০৯ সালের বিআরএস জরিপের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি সিএস রেকর্ড ও বৈধ দলিলপত্র যাচাই করে নামজারি বা মিউটেশন করার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই দীর্ঘদিনের অসহনীয় দুর্ভোগ থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে।এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জেএল নং–৫২ গাড়ফা মৌজার সাধারণ জনগণ।



ফেসবুক কর্নার