March 9, 2026, 9:27 am
শিরোনাম :
রাঙ্গামাটিতে এনসিপিতে পদত্যাগের ঢল, ভাঙনের আভাস নলডাঙ্গায় মেয়র প্রার্থী হিসেবে দোয়া ও সমর্থন চাইলেন জাহিদুল ইসলাম লামায় প্রথম ধাপে ১,০৯৭ পরিবার পাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড চিরিরবন্দরে গৃহবধুর আত্মহত্যা, ৩ জন আটক আশুগঞ্জে ৭০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার রৌমারীতে ছ্যাঁচড়া চোরের উপদ্রব, অতিষ্ঠ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা বুধবার সরকারি দলের সংসদীয় সভা, এমপিদের উপস্থিত থাকতে হুইপের নির্দেশ ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেই ইরান যুদ্ধ শেষের সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প বিশ্বকাপে অনন্য ‘পাঁচ’ রেকর্ড, যা শুধুই ভারতের

সবজির বাজারে ধস, ২ টাকা কেজি ফুলকপি—দিশেহারা কৃষক

অভয়নগর প্রতিবেদক

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী ও দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজির মোকাম মহাস্থান হাটে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলনে ভয়াবহ দরপতন দেখা দিয়েছে। শনিবার (হাটবার) প্রচুর সরবরাহ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার অভাবে পানির দরে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ফুলকপি চাষিরা—যেখানে ফুলকপির দাম নেমে এসেছে মাত্র ২ থেকে ৩ টাকা কেজি, অর্থাৎ মণপ্রতি ৯০ থেকে ১২০ টাকা। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও এই ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অতিরিক্ত এবং পর্যাপ্ত হিমাগার ও সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় প্রায় সব শীতকালীন সবজির দামই নিম্নমুখী। বর্তমানে বাজারে মুলা বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। নতুন আলু জাতভেদে ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা।
এছাড়া শিম কেজি ১৬ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, পাতা পেঁয়াজ ৩০ টাকা, কাঁচা টমেটো ২০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ব্যতিক্রম হিসেবে রঙ্গিলা জাতের বেগুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। এই জাতের বেগুন মণপ্রতি ২০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, মাঠ থেকে হাটে সবজি পরিবহন ও শ্রমিকের যে খরচ হচ্ছে, বর্তমান বাজারদরে তা-ও উঠছে না। কৃষক নয়ন মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “যে ফুলকপি গত সপ্তাহে ২৫০-৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি, আজ তা ৯০ টাকা মণে দিতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচই উঠবে না।”
আড়তদারদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন মহাস্থান হাট থেকে প্রায় ৪০ ট্রাক সবজি ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। তবে বাইরের পাইকার কম আসায় স্থানীয় বাজারে দরপতন আরও তীব্র হয়েছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ১৭টি হিমাগারে হাজার হাজার বস্তা আলু অবিক্রিত পড়ে রয়েছে। ১৫ নভেম্বর আলু উত্তোলনের শেষ সময় থাকলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক আলু তুলতেই পারেননি। বগিলাগাড়ী নিউ কাফেলা কোল্ডস্টোরের ব্যবস্থাপক জানান, বারবার মাইকিং করার পরও এখনো প্রায় ৯ হাজার বস্তা আলু বিক্রি হয়নি। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় এ বছর আলুর বাজারও চরম মন্দার মধ্যে পড়েছে।
বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় শিবগঞ্জের কৃষকদের কপালে এখন গভীর চিন্তার ভাঁজ। কৃষকরা বলছেন, কার্যকর বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকলে প্রতি বছরই তাদের এমন লোকসানের মুখে পড়তে হবে।



ফেসবুক কর্নার