ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মার শান্তি, ঐক্য ও পরকালের মুক্তি কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার পূর্বভরণশাহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাঠে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ইজতেমা।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় আখেরি মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে। ঢাকার কাকরাইল মসজিদের মুরব্বী মাওলানা আব্দুল মতিন প্রায় ২০ মিনিট ধরে হৃদয়স্পর্শী মোনাজাত পরিচালনা করেন।
আহলে হক্ক ওলামায়ে কেরামদের অধীনে শুরায়ে নেজামের তত্ত্বাবধায়নে আয়োজিত এই ইজতেমায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও হাজারো মুসল্লি শরিক হন। আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে সকাল থেকেই ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের ঢল নামে। মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক, গলি ও বাড়ির আঙিনা পর্যন্ত মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যে যেখানে জায়গা পেয়েছেন, সেখানেই বসে মোনাজাতে অংশ নেন।
হাজারো মুসল্লির ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ইজতেমা ময়দান। আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিরা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ, গুনাহ মাফ, মুসলিম উম্মার ঐক্য ও বিশ্ব শান্তি কামনায় দুই হাত তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মোনাজাত শেষে জামাতের সাথীরা ইসলামের দাওয়াতি কাজে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। ইজতেমার প্রতিদিন ফজর, যোহর, আছর ও মাগরিবের নামাজের পর দেশ-বিদেশের মুরব্বিরা বয়ান পেশ করেন। অধিকাংশ বয়ান বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠিত হয়।
ইজতেমা আয়োজক কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম রবি জানান, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা সফলভাবে শেষ হয়েছে। টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা সফল করার লক্ষ্যে এখান থেকে জামাত গঠন করে দাওয়াতি কাজে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ইজতেমা চলাকালীন পুরো ময়দানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।