March 6, 2026, 4:18 am
শিরোনাম :
মাগুরায় আওয়ামীলীগ কার্যালয় সামনে পতাকা উত্তোলন আগুন ও ভাংচুর, আটক ৩ কুড়িগ্রামে নয় বছর ধরে ভাঙা ব্রিজ, যাতায়াতে আতঙ্কে ২০ হাজার মানুষ সরিষাবাড়ীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার রমজানকে ঘিরে বাজার তদারকি জোরদার: রামপালে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা আরও এক দেশে সরকার পরিবর্তনের হুমকি ট্রাম্পের আনোয়ারায় গ্যাস সংকটে দুই সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ একযোগে রাশিয়ার ৪ যুদ্ধজাহাজে ভয়াবহ হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ৫ দিন ধরে ইন্টারনেট নেই ইরানে কালিগঞ্জে অবৈধ ২ টি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়

সুদভিত্তিক ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে চাকরি: হালাল নাকি হারাম? ইসলামী শরিয়াহর আলোকে বিশ্লেষণ-আব্দুল মতিন মুন্সী  

অভয়নগর প্রতিবেদক

দেশের চাকরির বাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব দিন দিন বাড়লেও সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করা শরিয়াহসম্মত কি না—এই প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একটি বড় অংশ এ বিষয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। ইসলামী আলেম ও ফিকহ বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত চাকরির প্রশ্ন নয়; বরং এটি হালাল-হারাম ও ঈমানি দায়িত্বের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
কুরআন ও হাদিসে সুদের অবস্থান
ইসলামে সুদ (রিবা) একটি গুরুতর হারাম বিষয়। পবিত্র কুরআনে একাধিক আয়াতে সুদ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সুদ ত্যাগ না করলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা পর্যন্ত এসেছে। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, সুদের ভয়াবহতা বোঝাতে কুরআনের ভাষা অত্যন্ত কঠোর।
হাদিস শরিফে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক ও সাক্ষী—সবার ওপরই আল্লাহর লানত।”
এই হাদিসের আলোকে আলেমরা ব্যাখ্যা করেন, সুদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত সবাই গুনাহের আওতায় পড়েন।
সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি নিয়ে আলেমদের মতামত
দেশ-বিদেশের অধিকাংশ প্রসিদ্ধ আলেম ও ইসলামী ফিকহ বোর্ডের মতে, সুদভিত্তিক ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা হারাম, যদি সেই চাকরির দায়িত্ব সুদের লেনদেন বা কার্যক্রমকে পরিচালনা ও সহায়তা করে।
আলেমদের ব্যাখ্যায়, একটি প্রচলিত ব্যাংকের কার্যক্রমের মূল ভিত্তিই সুদ। ফলে ঋণ বিভাগ, হিসাবরক্ষণ, ক্যাশ কাউন্টার, অপারেশন, এমনকি আইটি ও প্রশাসনিক বিভাগও সুদের ব্যবস্থাকে সচল রাখতে ভূমিকা রাখে। এই কারণে এসব পদে চাকরি করাকে সুদের কাজে সহযোগিতা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা শরিয়াহ অনুযায়ী নাজায়েজ।
একজন জ্যেষ্ঠ আলেম বলেন,
“শুধু সুদ নেওয়াই নয়, সুদের হিসাব রাখা বা সেই ব্যবস্থাকে চালু রাখতে সহায়তা করাও ইসলামে নিষিদ্ধ।”
ভিন্নমত ও শর্তসাপেক্ষ অনুমতি
তবে কিছু আলেম শর্তসাপেক্ষে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যদি কেউ সরাসরি সুদের হিসাব, চুক্তি বা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত না থাকেন এবং চরম আর্থিক সংকট বা জীবিকার তীব্র প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে সাময়িকভাবে এমন চাকরি করার অবকাশ থাকতে পারে।
তবে তারাও স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো স্থায়ী বা আদর্শ সমাধান নয়। বরং দ্রুত হালাল বিকল্প আয়ের পথে ফিরে আসার চেষ্টা করা ফরজের কাছাকাছি দায়িত্ব।
ইসলামিক ব্যাংক ও সুদমুক্ত প্রতিষ্ঠানের অবস্থান
শরিয়াহ বোর্ড অনুমোদিত ইসলামিক ব্যাংক ও সুদমুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে সাধারণ ঐকমত্য রয়েছে। তাদের মতে, যদি এসব প্রতিষ্ঠান বাস্তবে মুদারাবা, মুশারাকা, ইজারা ও অন্যান্য শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, তাহলে সেখানে চাকরি করা হালাল।
তবে আলেমরা সতর্ক করে বলেছেন, নামমাত্র ইসলামিক ব্যাংক হলেও বাস্তব কার্যক্রম যাচাই করা জরুরি।
হালাল উপার্জন ও সামাজিক প্রভাব
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, হালাল উপার্জনের প্রভাব শুধু ব্যক্তির জীবনে নয়; বরং পরিবার ও সমাজেও পড়ে। হারাম আয়ের ফলে ইবাদতে বরকত কমে যায় এবং নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি হয়।
একজন আলেম বলেন,
“হালাল রিজিক মানুষের দোয়া কবুল ও আত্মিক প্রশান্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
উপসংহার
সার্বিকভাবে আলেম সমাজের অভিমত হলো—
সুদভিত্তিক ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে সুদসম্পর্কিত চাকরি করা হারাম
চরম দরুরত ছাড়া এসব চাকরি পরিহার করাই উত্তম
ইসলামিক ও সুদমুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করাই নিরাপদ ও বরকতময় পথ
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজ নিজ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত



ফেসবুক কর্নার