March 12, 2026, 1:25 am
শিরোনাম :
পাবনায় টিআর প্রকল্পে ৩ লাখ টাকার রাস্তাই নেই, অনিয়মের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইরানে হামলা করার মতো ‘আর কিছুই নেই’, যুদ্ধ শেষ শিগগিরই পুরো অঞ্চল পোড়ার আগেই ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে: এরদোয়ান দোয়ারাবাজারে নিখোঁজ রাজিবের ১৮ মাস পর পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন ভারত থেকে পাইপলাইনে ৫ হাজার টন ডিজেল পৌঁছালো পার্বতীপুরে বাংলাদেশ চায় ভোট, সমরাস্ত্র বিক্রিতে জোর দিতে পারে তুরস্ক খাগড়াছড়িতে ঋণের হতাশায় ব্যবসায়ী যুবকের আত্মহত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষি জমি ও ডোবা ভরাটে ৪ ড্রেজার ও ২ হাজার ফুট পাইপ বিনষ্ট, জরিমানা ৪০ হাজার নন্দীগ্রামে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা সুলতানের পাশে ইউএনও শারমিন আরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে হেরোইনসহ মাদক কারবারি আটক

ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে অবৈধ বহুতল ভবন সাতক্ষীরা পৌরসভায় ‘ম্যানেজ বাণিজ্য’ করে চলছে কোটি টাকার নির্মাণ—ফুঁসছে জনমত

অভয়নগর প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা পৌরসভার বিভিন্ন ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকায় অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণ যেন এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কোনো প্রকার নকশা অনুমোদন, বিল্ডিং কোড বা নিরাপত্তা বিধি না মেনেই গড়ে উঠছে একের পর এক বহুতল স্থাপনা। পৌরসভার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই এসব অবৈধ ভবনের কাজ চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, সাতক্ষীরা পৌরসভার কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করেই প্রভাবশালীরা অবৈধ নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন নগর পরিকল্পনা ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা খুলনা রোডে অবস্থিত এলজি শোরুমের পাশেই মাহতাবউদ্দিন মল্লিক মাত্র ৭ শতাংশ জমির ওপর কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই পাঁচতলা ভবনের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় নকশা অনুমোদন, ফায়ার সেফটি, পার্কিং ব্যবস্থা কিংবা সেটব্যাক কোনো কিছুর তোয়াক্কা করা হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সুলতানপুর বড়বাজার সরকারি গোডাউনের সামনে যোহা নামে এক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি গোপনে স্থাপনার কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই এলাকায় বাজার জামে মসজিদের সামনে মেসার্স মসলা ভান্ডারের মালিক ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাশেম এবং মসজিদের উত্তর পাশে মেসার্স পলিথিন স্টোরের মালিক জুলফিকার রহমান রাতের আঁধারে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এছাড়া সুলতানপুর চাউল বাজারে অবস্থিত আবু জাহের সম্প্রতি একটি পাঁচতলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন জনাকীর্ণ বাজার এলাকায় এত বড় ভবন নির্মাণের আগে আদৌ কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তা কেউ জানে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা রোডে মাহতাবউদ্দিন মল্লিকের অবৈধ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন ইঞ্জিনিয়ার আশিকুজ্জামান চয়ন। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে ‘চুক্তি’ করে এই অবৈধ নির্মাণ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা পৌরসভার সার্ভেয়ার মামুন, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) সাগর দেবনাথ, উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মহাব্বত আলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী এম. এম. নূর আহমদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাদের যোগসাজশেই অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ স্থাপনা অনুমোদনের নামে এখানে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনাহীন ও অনুমোদনহীন বহুতল ভবন শুধু নগর সৌন্দর্যই নষ্ট করছে না, বরং মারাত্মক ঝুঁকিও তৈরি করছে। অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প কিংবা অন্য কোনো দুর্যোগে এসব ভবন ভয়াবহ প্রাণহানির কারণ হতে পারে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় এসব ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে।
এ বিষয়ে একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে পৌরসভা কি তবে অবৈধ ভবন নির্মাণের নীরব অংশীদার? অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে সাতক্ষীরা পৌর এলাকা অচিরেই একটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ কংক্রিট জঙ্গলে’ পরিণত হবে।
উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) সাগর দেবনাথের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাজ তো রাস্তাঘাট ড্রেন নির্মাণ এগুলো তদারকি করা তাছাড়া আপনি আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে একটু কথা বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার আশিকুজ্জামান চয়ন খুলনা রোডে অবস্থিত এল,জি শো রুমের পাশে নির্মাণাধীন কনস্ট্রাকশনের অনুমোদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন ঐখানে শুধু মাত্র ডিপ টিউবওয়েল বসানো হচ্ছে। কনস্ট্রাকশনের কাজ আপাতত হচ্ছে না। আমি রংপুরে আছি সাতক্ষীরা এসে দেখা করবো।
উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাব্বত আলীর ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মদ ব্যস্ততা দেখিয়ে কলটি তড়িঘড়ি করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।



ফেসবুক কর্নার