
ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশুসন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে যে বিতর্ক ও আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন।
রোববার জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাগেরহাট কারাগার থেকে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর জুয়েল হাসান সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর অথবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে প্যারোলে মুক্তির কোনো লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
প্রশাসনের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য থেকে জানা গেছে—সময় স্বল্পতার কারণে পারিবারিক সিদ্ধান্তেই তারা প্যারোলের আবেদন না করে কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখানোর অনুরোধ জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্দির স্ত্রীকে লেখা চিঠি বা কারাগারে বন্দি অবস্থার যেসব ছবি প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একইসঙ্গে “আবেদন করার পরও প্যারোল দেওয়া হয়নি”—এমন দাবিকেও সম্পূর্ণ অসত্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর এ সংক্রান্ত কোনো আবেদনই জমা পড়েনি।
তবে মানবিক বিবেচনায় পরিবারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সেই অনুযায়ী, কারাগারের প্রধান ফটকে মরদেহ এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয় সাদ্দামকে।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে দূর থেকে স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মুখ শেষবারের মতো দেখতে পান তিনি। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে আসা পরিবারের ছয় সদস্যকে ফটক এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় এবং প্রায় পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই পড়ে ছিল তাদের ৯ মাস বয়সী শিশু নাজিফের নিথর দেহ।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে গভীর শোক ও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।