March 6, 2026, 4:34 am
শিরোনাম :
মাগুরায় আওয়ামীলীগ কার্যালয় সামনে পতাকা উত্তোলন আগুন ও ভাংচুর, আটক ৩ কুড়িগ্রামে নয় বছর ধরে ভাঙা ব্রিজ, যাতায়াতে আতঙ্কে ২০ হাজার মানুষ সরিষাবাড়ীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার রমজানকে ঘিরে বাজার তদারকি জোরদার: রামপালে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা আরও এক দেশে সরকার পরিবর্তনের হুমকি ট্রাম্পের আনোয়ারায় গ্যাস সংকটে দুই সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ একযোগে রাশিয়ার ৪ যুদ্ধজাহাজে ভয়াবহ হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ৫ দিন ধরে ইন্টারনেট নেই ইরানে কালিগঞ্জে অবৈধ ২ টি ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়

নতুন রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে সাতক্ষীরা

অভয়নগর প্রতিবেদক

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বশেষ জেলা সাতক্ষীরা অবশেষে রেল যোগাযোগের আওতায় আসতে যাচ্ছে। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত হিমসাগর আম, রফতানিযোগ্য হিমায়িত চিংড়ি, সুন্দরবনের মধু, ভোমরা স্থলবন্দর ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জন্য জেলার বিশেষ পরিচিতি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে রেল যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল সাতক্ষীরা।
এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট, জমি নির্ধারণ এবং স্টেশন চিহ্নিতকরণসহ প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা–জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে তৎকালীন বাংলায় প্রথম রেল যোগাযোগের সূচনা হয়। দীর্ঘ ১৬৪ বছর পর সেই ঐতিহাসিক রেল মানচিত্রে যুক্ত হতে যাচ্ছে সাতক্ষীরা জেলা।
প্রকল্প ব্যয় ও অবকাঠামো
নাভারন থেকে ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর সিংহভাগ অর্থ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-র ঋণ সহায়তায় সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই রেলপথে
নাভারন
কলারোয়া
মাধবকাঠি
সাতক্ষীরা সদর
ভোমরা স্থলবন্দরসহ
মোট ৬টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
রেললাইন চালু হলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও সাশ্রয়ী হবে, পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটন খাতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা
শিক্ষার্থী তানভীর রহমান, দর্শনার্থী মোমিন হোসেন ও গৃহিণী সুফিয়া বেগম জানান, দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অল্প খরচে স্বল্প সময়ে যাতায়াত সম্ভব হবে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।
ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান, তৌহিদুর রহমান ও শফিকুর রহমান বলেন, রেল যোগাযোগ চালু হলে ভোমরা স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রফতানি বাড়বে, পর্যটন শিল্পে গতি আসবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
রেলওয়ের বক্তব্য
বেনাপোল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. আয়নাল হাসান জানান, কয়েক দফায় জমি নির্ধারণ, সয়েল টেস্ট এবং ছয়টি স্টেশন স্থাপনের প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৮৮২–৮৪ সালের মধ্যে বনগাঁ–যশোর–খুলনা ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের সময় বেনাপোল ও নাভারনে স্টেশন স্থাপন করা হয়। ১৯১৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় কলকাতা থেকে নাভারন হয়ে সাতক্ষীরার মধ্য দিয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সেটি অনুমোদিতও হয়েছিল।
পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে সাতক্ষীরা–ভেটখালী সড়ক নির্মাণের সময় রেলের জন্য জমি সংরক্ষণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়, যা এতদিন বাস্তবায়ন হয়নি।
বর্তমানে দেশে মোট ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেললাইন রয়েছে এবং রেল নেটওয়ার্কে ৪৪টি জেলা যুক্ত। ২০১০–২০৩০ মেয়াদি রেল মহাপরিকল্পনায় নতুন করে আরও ১৫টি জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নাভারন–সাতক্ষীরা–মুন্সিগঞ্জ রেললাইন নির্মাণের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে নাভারন–ভোমরা রেল যোগাযোগ প্রকল্প, যা সাতক্ষীরার উন্নয়ন ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত করবে।



ফেসবুক কর্নার