May 14, 2026, 2:50 pm
শিরোনাম :
বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান মুকসুদপুরে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পরিচালক খয়ের উদ্দিন মোল্লা উপবন এক্সপ্রেসের টয়লেট থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার শ্যামগঞ্জ বাজারে আমিনুল সরকারের বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র অতিরিক্ত সোডা ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ ইপিজেডে রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কে হকার-শ্রমিকরা গর্জনিয়ায় পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ঝিকরগাছায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নৈশপ্রহরীর মৃত্যু যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: রাঙামাটিতে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুড়িগ্রামে খাদে পড়ার উপক্রম স্কুলবাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা শিবচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় স্থবির রৌমারী, ১৮৪ মিমি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন

পাখি শিকারের মহোৎসব: জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকিতে

কে. এম. জাকির রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রৌমারী একসময় বিল-ঝিল আর সবুজে মোড়া এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে ভোরের আলো ফুটত হাজারো পাখির কলকাকলিতে। কিন্তু বর্তমানে সেই দৃশ্য বিলুপ্তির পথে। রৌমারীর বিভিন্ন জলাশয় ও ঝোপঝাড়ে বন্দুকের গুলির শব্দে এখন ভরে উঠেছে পরিবেশ। দেশি ও পরিযায়ী পাখিদের শিকার কার্যক্রমে স্থানীয়দের উদ্বেগ ক্রমশ বেড়ে চলেছে।
স্থানীয়রা জানান, এক শ্রেণির প্রভাবশালী ও শৌখিন শিকারি নিয়মিত বন্দুক নিয়ে পাখি শিকারে মেতে উঠছেন। অথচ প্রশাসনের ভূমিকা প্রায় ‘দর্শক’ হিসেবে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুসারে লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া কোনো পাখি শিকার, হত্যা বা বন্দি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অনুযায়ী:
তফশিলভুক্ত পাখি শিকারের ক্ষেত্রে: ১ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
পরিযায়ী পাখি শিকারের ক্ষেত্রে: ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো অস্ত্র ব্যবহার। শিকারিরা আত্মরক্ষার জন্য প্রদত্ত লাইসেন্সযুক্ত বন্দুক ব্যবহার করে পাখি শিকার করছেন, যা অস্ত্র আইনেরও লঙ্ঘন। সমাজকর্মী নাজমুল চৌধুরী (নয়া) বলেন, “সমাজের কিছু অসাধু লোকের কারণে রৌমারীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আজ যদি আমরা এদের না থামাই, আগামী প্রজন্ম কেবল বইয়ে পাখির ছবি দেখবে, বাস্তবে নয়।”
স্থানীয় বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের উচিত দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা, শিকারিদের ব্যবহৃত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা এবং কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা। পাখি কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, বরং বাস্তুসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রৌমারীর ঐতিহ্যবাহী জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়া অত্যাবশ্যক, যাতে আকাশ আবারও পাখির ডানায় মুখর হয়ে ওঠে।



ফেসবুক কর্নার