April 23, 2026, 7:46 pm
শিরোনাম :
ধামইরহাটে পুলিশের অভিযানে ৬৫০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার ও ধ্বংস কালিগঞ্জের ডিআরএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার বরখাস্ত শান্তিগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন, সপ্তাহজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি তীব্র গরমে অভিভাবকদের পাশে দাঁড়ালেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীন মাহমুদ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে চলা তাপস্বীর পাশে জেলা পরিষদ বাগমারায় ৭ মাসের শিশুকে নিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূ, উৎকণ্ঠায় পরিবার শিবগঞ্জে টানা চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, চার দিনে ১৩ বাড়িতে সিঁধ কাটা মান্দায় জমি বিরোধে সাত বিঘার বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষ মামলায় এনায়েতনগর যুবদলের তিন নেতা জামিনে মুক্তির পথে সিংগাইরে নারীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ

লালমনিরহাট রেলওয়ে অফিসে লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগে ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত

অভয়নগর প্রতিবেদক

লালমনিরহাট রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে অফিসে বসে নীতিমালা উপেক্ষা করে বাণিজ্যিক লাইসেন্স প্রদানের নাম করে নগদ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভুক্তভোগী এই অভিযোগ করেছেন। কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার ৮৪টি স্টেশন এলাকা লালমনিরহাট রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের আওতায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় শত শত দোকান অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার রনিউল ইসলাম ও ফজলে রহমানের কাছ থেকে যথাক্রমে ১ লাখ ২৫ হাজার ও ৮৪ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করা হয়। পরে অফিসের কর্মচারীর মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংক, লালমনিরহাট শাখায় ৬টি সরকারি এ-চালানের মাধ্যমে যথাক্রমে ৫৩ হাজার ও ৩৬ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। বাকি অর্থের কোনো রশিদ বা হিসাব দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, যে লাইসেন্স দেওয়া হয় তা মূলত রেলওয়ের এস্টেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে এন্ট্রিকৃত তথ্যের প্রিন্ট কপি মাত্র। সরকারি কোষাগারে জমার রশিদ চাইলেও তা প্রদান করা হয়নি।
ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২০ অনুযায়ী:
অবৈধ দখল উচ্ছেদ, লীজযোগ্য ভূমির তালিকা প্রস্তুত এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লাইসেন্স প্রদানের বিধান রয়েছে।
নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১৫(খ) অনুযায়ী, নির্ধারিত উদ্দেশ্য ব্যতীত রেলভূমি ব্যবহার করলে লাইসেন্স বাতিল, উচ্ছেদ এবং প্রতি বর্গফুটে তিনগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, নীতিমালার সাংঘর্ষিক ব্যাখ্যা ব্যবহার করে কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বাণিজ্যিক লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে এবং মাত্র এক বছরের রাজস্ব প্রদর্শন করে বহু বছরের বকেয়া গোপন রাখা হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন দোকানে তালা ঝুলিয়ে অফিসে ডেকে এনে দ্বিগুণ বা তিনগুণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উচ্ছেদ ও মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা মনজুর হোসেনের সহযোগী হিসেবে অফিস সহকারী জাবের হোসেন এবং ফিল্ড কানুনগো সিদ্দিকুর রহমান এ কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে মনজুর হোসেন বলেন, “অভিযোগ থাকলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন।” তবে নগদ অর্থ গ্রহণের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন বলে অডিও রেকর্ডে শোনা যায়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পঞ্চিমাঞ্চল-এর চীফ এস্টেট অফিসার মোঃ নাদিম সরোয়ার এবং লালমনিরহাটের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার জানিয়েছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



ফেসবুক কর্নার