দৈনিক অভয়নগর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে মণিরামপুর পৌরসভা ড্রেন পরিষ্কার, মশক নিধন ও বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসনের তৎপরতা
মাসুম বিল্লাল মনিরামপুর যশোর
Update Time :
Monday, March 2, 2026
/
43 Time View
/
Share
“সেবা না প্রহসন—মণিরামপুর পৌরসভার ড্রেন এখন মশার কারখানা! যানজটে ধোঁয়াশা, বাজারে নেই মনিটরিং”—এমন শিরোনামে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকাসহ কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পরপরই যশোরের মণিরামপুর পৌরসভায় দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
সংবাদ প্রকাশের পরদিন ১ মার্চ থেকে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মাঠে নেমে ড্রেন পরিষ্কার, মশক নিধনে স্প্রে কার্যক্রম এবং বাজার মনিটরিং শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় আবদ্ধ ড্রেনগুলো পরিষ্কার করতে শ্রমিকদের সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রভাব
দৈনিক যশোর বার্তার মণিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি এসএম তাজাম্মুলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে পৌরসভার বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও নাগরিক সেবায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা, মশার উপদ্রব, যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব, ফুটপাত দখল এবং রমজান মাসে বাজার মনিটরিং না থাকার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সংবাদ প্রকাশের পর জেলা শহর যশোর ও মণিরামপুরে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক পরিসর—সর্বত্র পৌরসভার সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সচেতন মহল থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ
আলোচিত বিষয়টি আমলে নিয়ে পৌর নির্বাহী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন নিজ দায়িত্বে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম তদারকি করছেন। তিনি মশক নিধন স্প্রে কার্যক্রম, ড্রেন পরিষ্কার, দখলদার উচ্ছেদ অভিযান এবং বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে সে বিষয়েও সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন জানান, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি যে কোনো অসঙ্গতি নজরে এলে তা সরাসরি প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গণমাধ্যম ও জবাবদিহিতা
বিশ্লেষণে দেখা যায়, দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের ফলে প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন নাগরিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—মণিরামপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারই একটি উদাহরণ।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সাময়িক তৎপরতা নয়—নাগরিক সেবায় এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং মণিরামপুর পৌরসভা একটি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে।