March 6, 2026, 1:05 am
শিরোনাম :

কুষ্টিয়া ডিসি বদলির সিদ্ধান্তে উত্তাল জেলা, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

অভয়নগর প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার প্রজ্ঞাপন জারির পর জেলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একটি প্রশাসনিক বদলির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রোববার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত শহরজুড়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালিত হয়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার সন্ধ্যায় প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। ‘জুলাই যোদ্ধা ও কুষ্টিয়া সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে জামায়াত-শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তাঁদের দাবি, জেলা প্রশাসক দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন এবং প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছিলেন। তাই তাঁর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে মজমপুর এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে কার্যালয়ের নিচতলা থেকে দোতলার সিঁড়ি পর্যন্ত অবস্থান করে স্লোগান দেওয়া হয়। বেলা একটার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ত্যাগের সময় তাঁর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদ জানান। প্রায় ৩০ মিনিট পর তিনি ছেঁউড়িয়ার লালন একাডেমির উদ্দেশে রওনা দেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে কার্যক্রম বন্ধের মতো কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ডিসিকে বহাল রাখার পক্ষে প্রচারণা লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে একই সময়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের বক্তব্য, জেলা প্রশাসককে রাখা বা প্রত্যাহার করা সরকারের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে কোনো রাজনৈতিক পক্ষের মাঠে শক্তি প্রদর্শন পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে বলে তারা মন্তব্য করেন।
এদিকে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা পরে আর দেখা যায়নি। অপরদিকে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাকির হোসেনও পৃথক এক স্ট্যাটাসে প্রশাসনিক বদলি ঘিরে বিশেষ মহলের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সব মিলিয়ে একটি প্রশাসনিক বদলি কুষ্টিয়ায় নতুন রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করেছে। এক পক্ষ এটিকে সুশাসনের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ বলছে প্রশাসনিক বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ হচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।



ফেসবুক কর্নার